আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ ইং

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৮-০৮-০৬ ১৯:৩১:১৩

আল-আমিন :: ‘মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের মূল্য দিতে হয়/সে প্রাণ অমৃতলোকে/মৃত্যুকে করে জয়।’ সৃষ্টিই যে এই নশ্বর জীবনকে অবিনশ্বরতা দেয়, সে কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন বলেই এমন উচ্চারণ ছিল কবির। শ্রাবণ মাস এলেই কবির গন্ধ পাওয়া যায়। তিনি বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্পর্শ পড়ে নি। আমার মনে হয় হৈমন্তী,বিলাসী আর অপরিচিতার মতো ছোট গল্পের সাথে আমার কয়েক বছরের পরিচয়,তারা আমার আপন কেহ। রবীন্দ্রনাথ কে নিয়ে লিখব এমন জ্ঞান আমি রাখি না।
শুধু সিলেট নয় সারা বাংলাদেশেই অনেক রবীন্দ্র গবেষক আছেন যাদের চোখে এই লেখাটি পড়বে এবং তারা আমার পরিচিত হতে পারেন। এমন হতে পারে সিলেটের আবৃত্তি শিল্পী জ্যোতি ভট্রাচার্য্য ম্যাম বলবেন এই লেখাটি এভাবে লেখলে ভালো হতো,ঐভাবে না লিখলেও পারতে। কারন তারা রবীন্দ্রনাথ সর্ম্পকে অগাধ জ্ঞান রাখেন যাদের তুলনায় আমার সিকি ভাগ জ্ঞানও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অর্জন হয় নি। তারপরও ভয়ে লিখছি। কারন লেখার প্রতি আমার একধরনের দুর্বলতা আছে। আর যদি কোনো পত্রিকার সম্পাদক বলেন আপনি লেখা ইমেইল করেন পত্রিকায় ছাপা হবে এই লোভও আমি সামলাতে পারি না। ফলে যে বিষয়ে জ্ঞান রাখি না সে বিষয়েও কিছু জেনে ভয় নিয়েই লিখতে চেষ্টা করি।আজও লিখতে বসলাম।
২.
২২ শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়ান দিবস। আজ থেকে ৭৭ বছর আগে বাংলা ১৩৪৮ সনের ২২ শ্রাবণ খ্রিস্ট্রীয় ১৯৪১ সালের ৬ আগস্ট কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ পরলোকগমন করেন। রবীন্দ্রনাথের হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য নতুন রূপ লাভ করে। বাংলা গদ্যের আধুনিকায়নের পথিকৃৎ রবিঠাকুর ছোটগল্পেরও জনক। গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায়, প্রবন্ধে, নতুন নতুন সুরে ও বিচিত্র গানের বাণীতে, অসাধারণ সব দার্শনিক চিন্তাসমৃদ্ধ প্রবন্ধে, সমাজ ও রাষ্ট্রনীতিসংলগ্ন গভীর জীবনবাদী চিন্তাজাগরন নিবন্ধে, এমনকি চিত্রকলায়ও রবীন্দ্রনাথ চিরনবীন-চির অমর। তার দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দর্শন। তিনি ছিলেন বিশ্বমানবতায় বিশ্বাসী। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শন অন্বেষণ করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যের অন্যান্য শাখার লেখনী মানুষকে আজও সেই অন্বেষণের পথে, উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে। রবীন্দ্রনাথ আজও সাম্যের মানবতার মানসিকতা গঠনের, চেতনার উন্মেষন গঠায়।

আমাদের জাতীয় সঙ্গীত এবং 'বাংলাদেশ’ নামের বানানটিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদেরকে দিয়েছেন। বাঙালি তথা বাংলাদেশীদের জীবনাচরণের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।

আমাদের জীবনের এমন কোনো বিষয় নেই, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনুপস্থিত। তার রচনাবলী আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলা সাহিত্যকে তিনি বিশ্বের দরবারে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন।

৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি। রবীন্দ্রনাথের সেই কথা এখনো প্রমান করে আমরা পুরাপুরি মানুষ হতে পারি নি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করতে হয়, সড়ক পরিবহন খাতে সীমাহীন নৈরাজ্য দেখতে হয়,পরিবহন সেক্টরের অরাজকতায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার মানসিকতা পোষণ করে দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য শাসন দেখতে হয়, ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম লেগেই থাকে। পরিবহনের চাপায় মানুষ মারা গেলে মন্ত্রীর বেফাঁস কথাবার্তা এবং ফালতু হাসি দেখতে হয়।

অধিকার আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দূষ্কৃতিকারীরা প্রবেশ করে নৈরাজ্য তৈরি করে গুজব রটায়ে মানুষ কে বিভ্রান্তি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে। সরকারী অফিসে ঘুষ দূর্নীতির লাগাম টেনে রাখা যায় না।

৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান কবিতায় রয়েছে প্রেম বিরহ দুঃখ সুখের বহমান। একজন প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য রবীন্দ্রনাথ অনুসরন হলে সমাজ এবং রাষ্ট্র সাংস্কৃতিক কর্মে সমৃদ্ধশালী হবে।রবীন্দ্রনাথ ধর্মের কবি নয়, তিনি মানবতার কবি।

‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি প্রথম এশিয়া মহাদেশে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনিই একমাত্র কবি, যিনি তিনটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকার জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা।জীবনের শেষ পর্যায়ে চিত্রশিল্পী হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

৫.
৮০ বছরের জীবন সাধনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জন্ম এবং মৃত্যুকে রাঙিয়ে দিয়ে গিয়েছেন শাশ্বত সুন্দরের অমর বার্তায়। বাঙালির চেতনার রঙ স্পষ্ট হয়েছে রবিঠাকুরের আলোয়। তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী। তিনি আমাদের হৃদয়ে বেচে থাকবেন তার সৃষ্টিশীল কর্মের মধ্যে।
কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।।

লেখক: কথা সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট।

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   আইয়ুব বাচ্চু আর নেই
  •   টিলাগড়ে ছাত্রলীগ কর্মী হত্যা: অপেক্ষা বিচারের
  •   কুমিল্লা সফরে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ
  •   সি‌লে‌টে সমা‌বে‌শের অনুম‌তি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট
  •   বালাগঞ্জে গ্রাম আদালতের ‘কমিউনিটি মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত
  •   বালাগঞ্জের বোয়ালজুড় ও ইলাসপুর বাজারে মন্টুর গণসংযোগ
  •   যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডন যুবলীগের বিবৃতি
  •   আমরা একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই: ড. মোমেন
  •   শেখ রাসেলের যত কথা
  •   পাবলিক ফিগার, এজন্য এত কথা সহ্য করি: পিয়া
  •   ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা: 'গ' ইউনিটে ফেল, 'ঘ' ইউনিটে প্রথম!
  •   ‘আমাকে শাড়ি খুলতে বলেছিল, নওয়াজ দাঁড়িয়ে দেখছিল'
  •   'সালমান খান ও তার ভাইয়েরা মিলে আমাকে ধর্ষণ করেছিল'
  •   নারীদের তুলনায় 'গোপন কষ্ট ' বেশি লুকিয়ে রাখে পুরুষরা!
  •   অটোচালকের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি!
  • সাম্প্রতিক ফিচার খবর

  •   নামিদামি স্কুলে পড়লেই কি শিশুরা মেধাবী হয়?
  •   রেলের উন্নয়নে বৃটিশদের ছাড়িয়ে গেল বর্তমান সরকার
  •   একজন বোকামানবের জন্ম কিংবা একটা গাধাকে ভালোবাসার গল্প
  •   সিলেট টু ঢাকা: ভার্চুয়াল যুগ; ননভার্চুয়াল ভালোবাসা
  •   আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস
  •   বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন ‘বুর্জ খলিফা’র অজানা ইতিহাস
  •   পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা
  •   হুমায়ূন আহমেদের ঠাট্টা
  •   বাংলাদেশের বদলে যাওয়া: দক্ষিণ এশিয়ার উদাহরণ, বিশ্বের বিস্ময়
  •   ইসলামে ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব
  •   দোয়ারাবাজার উপজেলার ইতিহাস ও কিছু কথা
  •   মীরজাফরের বংশধর ইস্কান্দার মির্জা
  •   অনলাইন সাংবাদিকতায় সম্মাননা পেলেন আহমেদ জুয়েল
  •   চমকে দিলেন তোফায়েল, পয়েন্ট অব নো রিটার্নে রাজনীতি?
  •   আচার্য শ্রীল প্রভুপাদ ও তাঁর অবদান