ভালোবাসা মেয়াদোর্ত্তীণ হবার আগেই যাব

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৮-০৪-০৬ ১২:৩২:৫৮

মুনজের আহমদ চৌধুরী :: আমি আনন্দের জন্যে খাই, সুস্বাদু সব খাবারগুলি চেটে-পুটে খেয়ে চলবার জন্য বেচেঁ থাকি। ভাত-ভেজা হাতখানি ঘন দুধে কড়া লিকােেরর চায়ের ধূমোয় শুকোতে ভালবাসি। বেহেশতে আমি ইলিশের ডিম নিয়ে যেতে পারব; এ কথাটা ভাবতেও ভালো লাগে। পেটের ভেতর দিয়ে হৃদয়ের দরোজা খোলবার পথটা বাঙ্গালীর মতোন আর কেউ চেনে না। খাই পরিমানে কম। তবু, বাসনা-রসনায় সিক্ত জীবন। আমার বিশ্বাস, বিশ্বের প্রত্যেকটি সৃষ্টিশীল মানুষ রসনা বিলাসী, উপভোগ করে খেতে ভালবাসেন।  রবীন্দ্রনাথ বাসতেন, নজরুল, সুকান্ত থেকে শেক্সপিয়ার; সবাই খাদ্য রসিক ছিলেন। গুনীজনদের এই বিলাসটা রপ্ত করবার চেষ্টা করি না, বংশগত। আব্বাও খেতেন পরিমানে কম, কিন্তু খেতে ভালবাসতেন আম্মার হাতের সব রান্না।

এবং অতি অবশ্যই আমিও ,সে আনন্দকে সঙ্গী করে তোমার চোখের তারায় রীতিমত 'ইস্কুল করি'।

লোকে বাঁচার জন্য খায়, জানি। আমি টক ঝাল গরুর গোশতের তরকারী খেয়ে ঘেমে-নেয়ে একাকার হতে ভালবাসি।
লোকে বেচেঁ থাকবার প্রয়োজনে খায় জানি, আমি খেয়ে চলবার প্রয়োজনে বেচেঁ থাকি।
কিছু লোকে ছাপাছাপির জন্য লিখে। আর আমি আনন্দের জন্য লিখি। আমার আসলে রাজনৈতিক অসঙ্গতি নিয়ে বেদনা আর ক্ষোভের কথাগুলি লিখতে খারাপ লাগে না। বিশেষত অনেক যখন সেটি এডিয়ে যেতে স্বাচ্ছ্যন্দ খোজেঁন নানা কারনে।

কিন্তু, ভাল একটা রির্পোট করবার নেশাটাও ছাড়তেও পারি না। শেষবধি, আমি আনন্দের জন্যই লিখি। কিছু অসাধারন ব্রেকিং আর চমকের খোজঁ বার করা রিপোর্ট লেখবার ক্ষুধাটা ফুরোয়নি বলে, এই বেচেঁ থাকা। কিছু অসাধারন যৌক্তিক যুদ্ধি আর শানিত দ্যুতির শব্দের গদ্যের মেলবন্ধন লিখবার পথ চেয়ে দিনগুলি উদযাপন। উদযাপন মানে এ কারনে যে, আমি জীবনকে খুব কম সময় যাপন করি। বেশিরভাগ সময় করি স্বাচ্ছ্যন্দের সাথে সাথে উদযাপন। জাগতিক সব দুঃখবোধকে বুক পকেটে রেখেও চলবার শক্তিটা জীবনই আমাকে দিয়েছে।


আমি বিশ্বাস করি ঐ লেখাটা আমার চেয়ে দরদ দিয়ে লেখবার মতোন এখনো কেউ জন্মায়নি। লেখালেখি ছাড়া আনন্দের সাথে নেশা আর প্রার্থনার মতো করে আর কিছু করা শিখতে পারিনি। তাই শেষ পর্যন্ত আমাকে অগত্যা লেখালেখিকেই  ভালবাসতে হয়। বিকল্প কোন পথ খোলা থাকে না গন্তব্যের, অথবা ভালবাসা দেবার।

কারন,নদী আমাকে নেবে না,
সমুদ্রে মুক্তো খোজঁতে আমি যাব না। বৃষ্টি; তুমি কি আমাকে নেবে?

আমি আসলে বৃষ্টি,কলম আর খাবারে আনন্দ খুজঁতে ভালবাসি। বেশিরভাগ মানুষ প্রতিষ্টা ভালবাসে, প্রাতিষ্টানিকতা বোঝে, আমি শুধু আনন্দ আর উপলব্ধির মুহুর্তগুলো মনে রাখতে ভালবাসি। নিজের জন্য লম্বা দুরত্বের কিছু ভাবি না। বড়জোড় সামনের মাস চারেকে কি করব,ততটুকু ভাবি।

দেশটাকে খুব মিস করি। দেশ ছেড়ে টাকা পয়সার এই দেশে থাকলেও মনটা পড়ে থাকে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের মাটির ঘ্রান আমাকে কাঁদায়। তখন আমাকে অগত্যা বর্ষার কাছে চিঠি লিখতে হয়। লিখতে হয়, বরষা, তুমি আমায় মেঘলা দিনে ডেকো। আমি ছাতামাথায় হাটতে ভালবাসি। জ্বর আসবার ভয় রেখেও বৃষ্টির ছাট শরীরে মাখতে ভালোবাসি।


সেদিন বাঙ্গালীপাড়া পুর্ব লন্ডনে ট্রেন থেকে নেমে হাটছিলাম। ছেলেটা বাংলাদেশী ছাত্র বা আমাকে চেনে এমন কেউ হবে। সিগারেট খাচ্ছিল। আমাকে দেখে দ্রুত সরে গেল সিগারেটটা ফেলে। ঘটনাটা আমাকে মুগ্ধ করলো। লজ্জিত আর বিব্রতও করলো। কারন আমার হাতেও যে ছিল। এই সব ছোট ছোট মুগ্ধতা,আনন্দ-বেদনা, এগুলো নিয়েই তৃপ্তিতে পথ চলি।

দুর্ভাগ্যকে খুব তাড়াতাড়ি মেনে নিতে জানি বলেই, প্রশান্তির সময়গুলো জীবনে আরো জলদি আসে।

এই যে, আজকের প্রিয় গানটা শুনতে শুনতে জীবনের অগোছালো গল্পের খেরোখাতা লিখছি। কোথাও মনে হল; আরে, এই গল্পটা তো একলা খালি আমার না। এটা হতো আপনারও গল্প। হয়ত কোন একটা অংশ। এটা আমার ফেসবুক বন্ধুদেরও হয়ত কারো জীবনের গল্প, হয়ত কোন স্কুল বন্ধুর। একটা সময় সব সম্পর্কে দুরত্ব বাড়ে। শুধু বন্ধুতা ছাড়া। খুব কাছের বন্ধুরা কখনো বিপদে সরে যায় না।

সেরা দুটো লাইন আর ভালবেসে নিজে পড়বার মতো একটাও লেখা লেখতে পারিনি। যে লেখাটা লিখতে পারবার তৃপ্তি নিয়ে অনায়াসে আনন্দে মরে যাওয়া যায়।

দিনশেষে চাই খুব কম। কারন,জানি চাওয়া বেশি হলেই তুমি ঠকবে। বিবেকের বোধটা আমার কাছে প্রার্থনার মতোন একটা বিষয়।
ক'দিন আগে, খুব এক কাছের মানুষ বাবা হয়েছেন। ফোন করে সুখবরটি দিয়ে নবজাতক শিশু কন্যাটির জন্য একটা নাম চাইলেন। রাতের ঐ সময়টায় কাজে ছিলাম।  তৎক্ষনাৎ কি জানি মনে এলো; বললাম, ডাকনাম রাখতে পারেন মৃদূলা। তিনি বললেন, নামটা তাঁর খুব পছন্দ হয়েছে।

জীবন যতটা দিয়েছে,আমি কখনোই ততটা দিই নি জীবনকে।
তবে, যা করি আর যা লিখি ; সবটুকু তার হৃদয় আর বিশ্বাস থেকে। নিজেকে আমি ঠকাই না,পাঠকদেরও না। শেষ বিচারে নিজের কাছে যোগ্যতার বহুগুণ পাওয়া কৃতজ্ঞ অর্ধেক মানুষ।

শেষপর্যন্ত আমাকে জানতে হয়, ভালবাসারও মেয়াদ থাকে। থাকে বলেই ভালবাসা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। খুব কম ভালবাসা কালোত্তীর্ন হয়। খুব কাছের ভালবাসাগুলি মেয়াদ হারাবার আগে মৃত্যুটার কাছেই হেরে যেতে আনন্দ থাকে। স্বার্থকতার।

মুনজের আহমদ চৌধুরী
লন্ডন ৬ এপ্রিল

লেখক,প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক, সদস্যঃ রাইটার্স গ্রীল্ড অব গ্রেট ব্রিটেন।

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে সিলেট জেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভ
  •   খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের বিক্ষোভ
  •   ছাতকে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু, গ্রেফতার ৪
  •   রোডের ডিভাইডার অপসারনের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভা
  •   জৈন্তাপুরে ব্যবসায়ী লিটনের মৃত্যুতে আল-ইসলাহ সমবায় সমিতির শোকসভা
  •   'সালমান শাহকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে'
  •   খালেদার বড় পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানি ২৬ জুন
  •   শ্রীমঙ্গলে বিপন্ন বনরুই উদ্ধার
  •   তাহিরপুরে তলিয়ে যেতে পারে ৫ হাজার একর জমির ধান
  •   ফেঞ্চুগঞ্জে ভিজিএফ’র চাল পাচারের আড়ালে যারা
  •   জমি সংক্রান্ত বিরোধে কানাইঘাটে এক ব্যক্তি খুন
  •   তাহিরপুর সীমান্তে ৪ ভারতীয় নাগরিক আটক
  •   সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ নিয়ে দুই তৌফিকের 'লড়াই'
  •   শাবির সুপা’র সভাপতি জয়, সাধারণ সম্পাদক সাবিত
  •   চীনের কাছে ক্ষমা চাইল উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট
  • সাম্প্রতিক মুক্তমত ও সাহিত্য খবর

  •   পৃথিবী দিবসে হরষে বিরষে
  •   আশার বাতিঘর এস. এম. জাকির হোসাইন
  •   গল্পের পেছনের গল্প..এবং পুলিশের দায়!
  •   তুমিই সত্যিকারের মেধাবী, তোমাকে লাল সালাম
  •   জেগে উঠা উচিত, যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে
  •   ধিক্কার জানাই সেই পশুদের
  •   মুক্তিযোদ্ধার পরিবার মানেই কোটা'র আশায় থাকা মেধাহীন মানুষ নয়
  •   অা‌মি সংঘহীন, সঙ্গীহীন নই
  •   ভালোবাসা এবং ভালোবাসা: মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  •   কেমুসাস বইমেলায় সাংবাদিক নোমান বিন আরমানের বই
  •   স্বাধীনতা মানে
  •   আমার সাহিত্যচর্চা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে আসা || মো. ওমর ফারুক
  •   পড়ছি, জেনারেলের কালো সুন্দরী
  •   নির্বাচনী হাওয়া
  •   আসুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করি, কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়