আজ শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০ ইং

জাপানের শিকোকু দ্বীপে পুতুলগ্রাম

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১২-১৯ ১৫:৫৮:১৮

সিলেটভিউ ডেস্ক :: দুর্গম গ্রাম নাগোরো। মাঝ দিয়ে নদী বয়ে যাওয়া জাপানের শিকোকু দ্বীপের গ্রামটিতে এখন আর কোনো শিশু নেই। নেই শিশুদের উচ্ছল আর ভুবন ভুলানো হাসি বা কান্নার আওয়াজ।

আছে শুধু কিছু পুতুল, যা শিশুদের স্মৃতিকে জাগিয়ে রেখেছে। এখন দুই ডজনের মতো পূর্ণবয়স্কের বাস।

শেষ শিশুটির জন্ম হয়েছিল ১৮ বছর আগে। শেষ দুই শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করার পর ২০১২ সালে গ্রামটির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজাও বন্ধ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি শরতের এক উজ্জ্বল দিনে সুকিমি আয়োনো স্কুলটিতে শিশুদের ফিরিয়ে এনেছেন। না মানুষ নিয়ে নয়, পুতুল দিয়ে।

৭০ বছর বয়সী এ বৃদ্ধা ৪০টিরও বেশি হাতে তৈরি পুতুল বন্ধ স্কুলটির মাঠে সাজিয়ে রেখেছেন; দৌড় প্রতিযোগিতা, দোলনা আর বল ছোড়া খেলার মাধ্যমে ফিরিয়ে এনেছেন জাপানি ক্যালেন্ডারে থাকা স্কুল স্পোর্টস ডে- ‘উনদোকাই’।

পুতুলের গ্রাম বলে খ্যাত নাগোরো আর সেখানে প্রাণোচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে আয়োনোর চেষ্টার কথা নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘আমরা এখানে আর শিশু দেখি না, আমি চাইতাম অনেক বেশি শিশু থাকলে এটা আরও আনন্দদায়ী হতো, যে কারণে আমি শিশুদের (পুতুল) তৈরি করেছি,’ বলেছেন গত সাত বছর ধরে বাৎসরিক পুতুল উৎসব মঞ্চস্থ করা নাগোরোতে জন্ম নেয়া আয়োনো।

জাপানের জনসংখ্যা দিন দিন কমে আসছে ও অবশিষ্টরা বুড়িয়ে যাচ্ছে; পরিস্থিতির ধাক্কা এখন দুর্গম এলাকাগুলোতেও টের পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে নিু জন্মহার উৎসাহিত হচ্ছে কর্মসংস্থানের অভাব এবং সমস্যাসংকুল জীবনযাপনের কারণে।

‘তরুণদের জন্য এখানে কোনো সুযোগ নেই। তারা এখানে বাঁচতে পারবে না,’ ভাষ্য আয়োনোর।

আয়োনো এবং তার বন্ধুরা এখানে ৩৫০-এর বেশি পুতুল বানিয়েছেন; যে সংখ্যা এখানকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ গুণ। কাঠ আর তারের কাঠোমো, খবরের কাগজ ও জাপানের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া পুরনো কাপড় দিয়ে বানানো এ পুতুলগুলো নাগোরোর বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হচ্ছে।

এসব পুতুলগুলোরর মধ্যে কোনোটি বৃদ্ধ মহিলার, যে পথের ধারের কবরের দিকে যাচ্ছে; কেউ বিশ্রাম নিচ্ছে হুইলচেয়ারে।

সৌজন্যে: যুগান্তর

সিলেটভিউ২৪ডটকম/১৯ ডিসেম্বর ২০১৯/মিআচৌ

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন