আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ ইং

দেশের এক আইএসপিতে সাইবার হামলা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৯-০৮ ১১:৩৭:০৩

সিলেটভিউ ডেস্ক :: দেশের একটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) কোম্পানির সার্ভারে সাইবার হামলা করেছে ম্যালওয়্যার ভাইরাসটি। এতে কোম্পানির ইন্টারনেট সেবা যেমন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাও। তারা দ্রুত সেরে ওঠার জন্য কাজ করছে।

এদিকে যেসব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠান ওই কোম্পানি থেকে ইন্টারনেট সেবা নিচ্ছেন তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। একই সঙ্গে ভাইরাসটির ধরন সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিসিসির ফরেনসিক ল্যাব বাংলাদেশে সাইবার হামলার বিষয়ে টানা ৯ দিন তদন্ত করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

দেশের সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশের তিনটি ইন্টারনেট প্রোটোকলে (আইপি) ম্যালওয়্যার ভাইরাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি খ্যাতিমান ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সার্ভারে ম্যালওয়্যার ভাইরাসটি মামলা চালিয়েছে। এতে কোম্পানির ইন্টারনেট সেবা প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ডাটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ওই কোম্পানির ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করেন তাদের তথ্যভাণ্ডারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভাইরাসটি ধীরে ধীরে আরও ছড়াতে পারে। এটি যাতে আর ছড়াতে না পারে সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কেননা, এই ভাইরাসের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতে সাইবার হামলা চালিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে দেশের ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংকগুলো সতর্কতার পাশাপাশি এটিএম বুথে ও অনলাইনে লেনদেন সীমিত করে দিয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, সাইবার বিশেষজ্ঞরা ম্যালওয়্যার ভাইরাসের বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে। ভাইরাসটি কিভাবে শনাক্ত করতে হবে সে ধরনের বেশ কিছু নমুনার তালিকাও দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। ওইসব নমুনা দেখলে সেগুলোতে কোনো ধরনের ক্লিক না করে ক্লিন বা অকেজো করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিভাবে এগুলো অকেজো করতে হবে তারও একটি গাইডলাইন রয়েছে এতে। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি বেসরকারি সংস্থাগুলোও কাজ করছে।

সূত্র জানায়, কোনো অপরিচিত, আকর্ষণীয় বা লোভনীয় অফার রয়েছে এমন কোনো ই-মেইলে বা ফেসবুক বার্তায় ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে বিসিসি। এগুলোর মধ্যেই ভাইরাসটি থাকতে পারে। যা ক্লিক করলেই সচল হয়ে উঠবে এবং ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠানের অনলাইনে বা সিস্টেমসে এসব বার্তা দেখলে তা বিসিসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

বাকি যে দুটি আইপিতে ম্যালওয়্যার ভাইরাস পাওয়া গেছে, সেগুলো নিয়ে বিসিসি আরও কাজ করছে। অচিরেই সেগুলোকে শনাক্ত করে অকেজো করা হবে। এ বিষয়গুলো সম্প্রতি বিসিসি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক তারেক বরকতউল্লাহ বলেন, একটি ইন্টারনেট কোম্পানির সার্ভারে ম্যালওয়্যার ভাইরাসটি হামলা চালিয়েছে বলে আমরা তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি। এখন এটি ধীরে ধীরে ছড়াতে পারে। যে কারণে এখন আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমাদের সঙ্গে অনেকে যোগাযোগ করছে। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এদিকে ভাইরাসটি পুরোপুরি অকার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সতর্কতা হিসেবে ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছে। অনেক ব্যাংক নিজস্ব কার্ড ছাড়া অন্য ব্যাংকের বা আন্তর্জাতিক কার্ডের লেনদেন এখনও স্থগিত রেখেছে। প্রতিটি ব্যাংকই তাদের অনলাইন লেনদেনের সফটওয়্যার শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা অনলাইন লেনদেনের নিজস্ব সফটওয়্যারে কোনো হামলা আসছে কি না তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতে সাইবার হামলা হতে পারে- মার্কিন বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সাইবার ইউনিটের এমন সতর্কতা জারির পর বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এফবিআইয়ের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের গোয়েন্দারা ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে জানতে বিশদভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সাইবার গোয়েন্দারাও তাদের সঙ্গে কাজ করছেন।
সৌজন্যে : যুগান্তর
সিলেটভিউ২৪ডটকম/৮ সেপ্টেম্বর ২০২০/ডেস্ক/মিআচৌ

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন