আজ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে হাকালুকি হাওর, পর্যটকদের ভিড়

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৮-০৪ ২১:৩১:৩২

এ.জে লাভলু, বড়লেখা :: উপরে নীল আকাশ। আর নিচে অথৈ স্বচ্ছ জলরাশি। হাওরের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে হিজল-করচসহ নানা জলজ বৃক্ষ। হাওরের জলে বয়ে চলছে ছোটবড় নৌকা। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। নয়নাভিরাম এই দৃশ্যটি এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের। হাওরের এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মন কেড়েছে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের। তাই তো সেখানে ছুটে আসছেন তারা।    

এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখার হাকালুকি হাওর। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। এতে আয়রোজগার বেড়েছে স্থানীয় নৌকা মাঝিদের। ফলে তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় ও বনবিভাগের হাকালুকি বিট অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা এলেই হাকালুকি হাওরে পর্যটকের ভীড় লেগে থাকে। তবে এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ভ্রমণপিপাসু মানুষ করোনার ভয় উপেক্ষা ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসছেন হাকালুকি হাওরে। ঈদের দিন শনিবার থেকে ঈদের চতুর্থদিন মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাকালুকি হাওর ঘুরতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন, কেউ বা এসেছেন বন্ধুদের সাথে। হাওরপারের হাল্লা গ্রামে যেতেই দেখা গেল সড়কে ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রাখা হয়েছে অনেকগুলো গাড়ি। বর্ষায় সড়কের বিভিন্নস্থানে ভাঙন ও পানি ওঠায় অনেকেই আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে গাড়ি রেখেছেন। সড়কের পাশ ঘেঁষে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে ছোটবড় নৌকা। মানুষজন দর কষাকষি করে সেসব নৌকায় ওঠে হাওরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাখিবাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের পাখিদের ওড়াওড়ি দেখছেন। হাওরের বুকে চলছে ছোটবড় নৌকা। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াচ টাওয়ার আর বনবিভাগের হাকালুকি বিট অফিসের ওপর দাঁড়িয়ে হাওরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবোকলন করছেন পর্যটকরা। ঘুরতে আসা পর্যটকদের কেউ কেউ ওয়াচ টাওয়ার থেকে হাওরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন, সাঁতার কাটছেন। ওয়াচ টাওয়ারে দায়িত্বরত লোকজন তাদেরকে সতর্ক করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। সন্ধ্যা অবধি সেখানে মানুষ আনোগোনা করছেন। 

হাওরে ঘুরতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহি আবিদ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন থেকে ঘরবন্ধি। অনেকদিন ঘোরাঘুরি হয়নি। প্রকৃতির কাছকাছি যাওয়া হয়নি। ভেতরে একরকম অস্বস্তি কাজ করছিল। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে হাওর থেকে ঘুরে আসি। এখানে এসে ভালো সময় কেটেছে। মনটা সতেজ লাগছে। এখানে সূর্যাস্ত দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী শাহ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘বর্ষায় হাওরের সৌন্দর্য দেখতে অন্যরকম ভালো লাগে। এখকার পরিবেশ আমাকে বার বার টানে। তাই প্রাণের টানে এখানে ছুটে এসেছি। অসম্ভব ভালো লাগছে। আসার সময় সড়কপথে কষ্ট হয়েছে। তবে হাওরের রূপ দেখে তা ভুলে গেছি।

শিক্ষক নাজিম উদ্দিন বলেন, বর্ষাকালে হাওর দেখতে অনেকটা মিনি কক্সবাজারের মতো লাগে। আর এখানে কী নেই? নির্মল বাতাস রয়েছে। হিজল-করচ গাছ রয়েছে। পাখি বাড়ি রয়েছে। এগুলো হাওরের সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখানে ঘুরতে এসে অন্যরকম ভালো লাগছে। আমরা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘোরাঘুরি করছি।

স্থানীয় এক নৌকা চালক বলেন, আমরা বর্ষাকালের জন্য অপেক্ষায় থাকি। এসময় মানুষজন হাওর ঘুরতে আসেন। তখন আমাদের বাড়তি আয়রোজগার হয়। এই সময়ে প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা আয়-রোজগার করা যায়।  

বন বিভাগের হাকালুকি বিট অফিসের দায়িত্বে থাকা (জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট) কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঈদ উপলক্ষে হাওরে প্রতিদিন ৫ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটছে। এখানে জনবল সংকট। একা মানুষজনের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিত খেতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি আরও কয়েকজন লোক এখানে দিতো তাহলে ভালো হতো। এখনও কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/৪ আগস্ট ২০২০ /লাভলু/পিডি

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন