আজ রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং

‘যতদিন বাঁচমু শেখ হাসিনার লাগি দোয়া করমু’

বড়লেখায় ৫০ পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০১-২৩ ১৭:৫৯:৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা সদর ইউনিয়নের সিংহেরমহাল এলাকার বাসিন্দা ননী গোপাল দেব। দুদিন আগেও তার কোনো জমি ছিল না। ছিল না কোনো ঘর। অন্যের ভাঙা একটি বাড়িতে থেকেছেন দিনের পর দিন। আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ননী গোপাল দেব এখন জমিসহ নতুন একটি ঘরের মালিক।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে তিনি নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়েছেন। নতুন ঘর পেয়ে ভীষণ খুশি তিনি। আলাপকালে ননী গোপাল দেব বলেন, ‘আমার নিজের কোনো জায়গা ছিল না। অন্যের জায়গায় ভাঙা একটা ঘরে থাকতাম। জীবনে ঘর তৈরি করে বসবাস করতে পারব তা কখনও ভাবিনি। সরকারের কারণে আজ আশ্রয় পেয়েছি, দালান পেয়েছি। ২ শতক জমির মালিক হয়েছি।’  

দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের কাশেমনগর গ্রামের বাসিন্দা রুনু বেগম। তার জমি-ঘর কিছুই ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় রুনুও জমিসহ একটি ঘর পেয়েছেন। আলাপকালে রুনু বেগম বলেন, ‘ঘর না থাকায় অসহায় ছিলাম। ঘর তৈরি করার ক্ষমতা আমার ছিল না। শেখ হাসিনার দেওয়া ঘর পেয়ে ঘর পেয়ে আমি খুশি। হাসিনার জন্য দোয়া করমু যতদিন বাঁচমু।’

শুধু গোপাল দেব বা রুনু বেগম নন, তাদের মতো মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ৫০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার জমিসহ নতুন ঘর পেয়েছেন।         
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের হাতে জমির দলিলসহ প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির চাবি হস্তাস্তর করা হয়েছে। বড়লেখা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ও ইউএনও শামীম আল ইমরান তাদের হাতে দলিলসহ বাড়ির চাবি তুলে দেন। এর আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের ভূমিহীন-গৃহহীনদের দুই ঘর বিশিষ্ট ৬৬ হাজার পাকা বাড়ির চাবি হস্তাস্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।



বড়লেখা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান। উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি। তিনি ঢাকাস্থ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক  ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা নীরা। অনুষ্ঠানে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এপিপি গোপল দত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এলাকায় ৫০টি ঘর নির্মাণে সরকারে ব্যয় হয়েছে ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিটি ঘরে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়া পরিবার প্রতি ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে কবুলিয়ত সম্পন্ন করে দেওয়া হয়েছে। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে খাবিটা কর্মসূচির আওতায় বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন এই কাজ বাস্তাবায়ন করেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান বলেন, ‘দুই কক্ষ বিশিষ্ট পাকা ঘরের সাথে আছে রান্নাঘর, বারান্দা ও বাথরুম। সুপেয় পানির জন্য রয়েছে টিউবওয়েল।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ‘যারা ঘর পেয়েছেন, তারা খুব গরিব। নিজেদের জায়গা ছিল না। কেউ অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে, কেউ বা খাস ভূমিতে একটি জরাজীর্ণ ঘর তৈরি করে থাকতেন। সেখানে একটি ভালো ঘর তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। মুজিববর্ষে দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে বড়লেখায় স্থানীয় সাংসদ ও পরিবেশমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং পরামর্শে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে আমরা ঘর দিয়েছি। পাকা ঘর তৈরি ও পরিবার প্রতি ২ শতাংশ করে খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে কবুলিয়ত সম্পন্ন করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পিআইওসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। পরিবারগুলো পাকা ঘর পেয়ে খুব খুশি। তাদের মুখের হাসি দেখে আমাদের ভালো লাগছে।’


সিলেটভিউ২৪ডটকম / লাভলু / ডালিম-৬

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন