আজ রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪ ইং

আন্দোলন করে চাপে আছি, এগোচ্ছি কৌশলে: নুর

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০৫-২২ ২১:৩০:১০

সিলেটভিউ ডেস্ক :: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনের কারণে চাপে আছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।

কোটা আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই ছাত্রনেতা বলছেন, স্বাভাবিকভাবে রাজনীতি করতে হলে এই চাপ থাকবেই সবসময়। কারণ অন্য সরকারের আমলেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে একটু হলেও চাপ থাকে। তাদের নানাভাবে মামলা-গ্রেপ্তার হয়রানি করা হয়।

নুরুল হক নুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামে চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা। ওই আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামের একটি সংগঠন। পরে যার নাম হয় ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েই নুর আলোচনায় আসেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের হামলায় নুরের পরিচিতি বেড়ে চলার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অধিকার আদায়ের সংগঠন ডাকসু ভিপি নির্বাচিত হন।

আলোচনা-সমালোচনায় থাকা ডাকসুর এই সাবেক ভিপি গত ১৬ মার্চ ফেসবুক লাইভে এসে ‘যারা আওয়ামী লীগ করে তারা মুসলমান নয়’ বলে মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যের জেরে দেশের বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন ক্ষমতাশীন দলটির নেতাকর্মীরা। এরপরই অনেকটা আড়ালে চলে যান নুর।

এক সঙ্গে এতো মামলার কারণে চাপে আছেন কি-না জানতে চাইলে ভিপি নুর বলেন, ‘আমাদের ৫৫ জন সহযোদ্ধা এখনো জেলে। তাদের জন্য একটা খারাপ লাগা আছে। ঈদের দিনও মানুষ ঈদের নামাজ পড়ে আনন্দ করেছে আর আমরা শহীদ মিনারে আন্দোলন করি সহকর্মীদের মুক্তির জন্য।’

‘এই সরকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নামে মিথ্যে মামলা দিচ্ছে, একের পর এক আমাদের সহযোদ্ধাদের গ্রেপ্তার করছে তার জন্য স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা চাপে আছি। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’

তবে রাজনীতি করতে গেলে স্বাভাবিকভাবে সব সময় এই ধরনের চাপ থাকবে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নুর বলেন, ‘কারণ আমরা অন্য সরকারের সময়েও দেখেছি বিরোধীদের বিরুদ্ধে একটু হলেও চাপ থাকে। তাদের ওপরে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।’

এই ধরনের চাপ থেকে পরিত্রাণের লক্ষে একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক দল গঠন করতে কাজ করছেন জানিয়ে ভিপি নুর বলেন, ‘এই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এক প্রকার মেনেই নিয়েছি এই সংগ্রাম করতে হলে আমাদের ওপর জেল-জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হতে হবে।’

গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী তার সংগঠনের ৫৫ কর্মীকে মুক্ত করার পরিকল্পনার বিষয়ে নুর বলেন, ‘আমাদের যারা গ্রেপ্তার হয়ে জেলে আছেন তারা আমাদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ফলে আমাদের সাংগঠনিকভাবে একটু পিছিয়ে গেছি।’

‘আমাদের ছাত্র অধিকার পরিষদের কাউন্সিল করার কথা ছিলো মার্চের শেষ দিকে এবং এপ্রিলের শুরুর দিকে রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিলো। এই কাজগুলো করতে পারিনি। তার পরেও আমরা চেষ্টা করছি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর। নতুন করে কর্ম পরিকল্পনা সাজানোর।’

ডাকসু নির্বাচন তথা ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার মতো নতুন নেতৃত্বের উত্থান হয়েছে বলে মনে করছেন নুর। আর সেকারণে এখন সরকার তাদের প্রধান টার্গেট করেছে বলেও দাবি এই ছাত্রনেতার।

নুর বলেন, ‘আমাদেরকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এলাকায় এলাকায় আমাদের ছাত্রনেতাদের বাড়িতে তাদের হুমকি দিচ্ছে। কোথাও হামলা করছে। ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে আমাদের দুজন সহকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রতিনিয়তই এই ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছি।’

তার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে নুর বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। মামলাগুলোর কোনোটারই চার্জশীট দিতে পারেনি। কারণ সবগুলো মামলাই হচ্ছে ভিত্তিহীন। হয়রানি করার জন্য এই মামলাগুলো দিয়েছে।’

নুর বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার না করলেও দেখা যায় আমার বেশ কিছু সহযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাসের পর মাস কারাগারে রেখেছে, নির্যাতন করছে। এগুলো করে সরকারের মূল উদ্দেশ্য আমাদের চাপে রাখা, ভয়ভীতিতে রাখা। তবে শত বাধা থাকা সত্তেও আমাদের কর্ম পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।’

ডাকসুর এই সাবেক ভিপি জানান, এরইমধ্যে তার সংগঠনের ছয়টি অঙ্গসংগঠন তৈরি হয়েছে। সেগুলি হলো- ছাত্রদের নিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুবকদের নিয়ে যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিকদের নিয়ে শ্রমিক অধিকার পরিষদ, পেশাজীবীদের নিয়ে পেশাজীবী অধিকার পরিষদ, প্রবাসীদের নিয়ে প্রবাসী অধিকার পরিষদ এবং নারীদের নিয়ে নারী অধিকার পরিষদ।



সৌজন্যে : ঢাকাটাইমস
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ জিএসি-৩৪

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন