আজ রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ইং

বাবরি মসজিদ: ফিরে দেখা ইতিহাস

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১১-০৯ ১৬:২৯:৫৩

সিলেটভিউ ডেস্ক :: ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং শিব সেনা পার্টির সমর্থকরা বাবরি মসজিদটি ধ্বংস করে। এর ফলে পুরো ভারতে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে হওয়া দাঙ্গায় ২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।

১৫২৮ সালে নির্মাণ

রামায়ণ-খ্যাত অযোধ্যা শহর ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের ফৈজাবাদ জেলায় অবস্থিত। তারই কাছে রামকোট পর্বত। ১৫২৮ সালে সেখানে সম্রাট বাবরের আদেশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, যে কারণে জনমুখে মসজিদটির নামও হয়ে যায় বাবরি মসজিদ। আবার এ-ও শোনা যায়, গত শতাব্দীর চল্লিশের দশকের আগে এই মসজিদ ‘মসজিদ-ই-জন্মস্থান’ বলেও পরিচিত ছিল।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

বাবরি মসজিদ নিয়ে সংঘাত ঘটেছে বার বার। অথচ ফৈজাবাদ জেলার ১৯০৫ সালের গ্যাজেটিয়ার অনুযায়ী, ১৮৫২ সাল পর্যন্ত হিন্দু এবং মুসলমান, দুই সম্প্রদায়ই সংশ্লিষ্ট ভবনটিতে প্রার্থনা ও পূজা করেছে।

সংঘাতের সূত্রপাত

প্রথমবারের মতো হিন্দু মুসলমানের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত। ১৮৫৯ সালে ব্রিটিশ সরকার দেয়াল দিয়ে হিন্দু আর মুসলমানদের প্রার্থনার স্থান আলাদা করে দেয়।

হিন্দুদের দাবি

আওয়াধ অঞ্চলের বাবর-নিযুক্ত প্রশাসক ছিলেন মির বকশি। তিনি একটি প্রাচীনতর রাম মন্দির বিনষ্ট করে তার জায়গায় মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে হিন্দুদের দাবি।

বেআইনিভাবে মূর্তি স্থাপন

১৯৪৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর– বেআইনিভাবে বাবরি মসজিদের অভ্যন্তরে রাম-সীতার মূর্তি স্থাপন করা হয়।

নেহরুর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

রাম-সীতার মূর্তি স্থাপনের পর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী গোবিন্দ বল্লভ পন্থকে চিঠি লিখে হিন্দু দেব-দেবীদের মূর্তি অপসারণ করার নির্দেশ দেন, তিনি বলেন ‘ওখানে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা হচ্ছে’।

মসজিদের তালা খোলার আন্দোলন

১৯৮৪ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মসজিদের তালা খুলে দেয়ার দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৫ সালে রাজীব গান্ধীর সরকার ঠিক সেই নির্দেশই দেন।

দুই সম্প্রদায় মুখোমুখি অবস্থানে

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রাম মন্দির নির্মাণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। ১৯৮৬ সালে মসজিদের তালা খুলে সেখানে পূজা করার অনুমতি প্রার্থনা করে হিন্দু পরিষদ। অন্যদিকে, মুসলমানরা বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি গঠন করেন।

‘রাম রথযাত্রা’


১৯৮৯ সালের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভিএইচপি বিতর্কিত স্থলটিতে (মন্দিরের) ‘শিলান্যাস’ এর অনুমতি পায়। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রবীণ নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি ভারতের দক্ষিণতম প্রান্ত থেকে দশ হাজার কিলোমিটার দূরত্বের ‘রাম রথযাত্রা’ শুরু করেন।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর এল কে আদভানি, মুরলি মনোহর যোশি, বিনয় কাটিয়াসহ অন্যান্য হিন্দুবাদী নেতারা মসজিদ প্রাঙ্গনে পৌঁছান। ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি, শিবসেনা আর বিজেপি নেতাদের আহ্বানে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বাবরি মসজিদে হামলা চালায়। ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।

সমঝোতার উদ্যোগ

২০০২ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী দু’পক্ষের সমঝোতার জন্য বিশেষ সেল গঠন করেন। বলিউডের সাবেক অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহাকে হিন্দু ও মুসলমানদের নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করার দায়িত্ব দেয়া হয়।

বিজেপি দোষী

বিশেষ কমিশন ১৭ বছরের তদন্তের পর ২০০৯ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপিকে দোষী দাবি করা হয়।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়

২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট তার রায়ে জানান, যে স্থান নিয়ে বিবাদ তা হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া উচিত। এক তৃতীয়াংশ হিন্দু, এক তৃতীয়াংশ মুসলমান এবং বাকি অংশ নির্মোহী আখড়ায় দেওয়ার রায় দেন। রায়ে আরও বলা হয়, মূল যে অংশ নিয়ে বিবাদ তা হিন্দুদের দেয়া হোক।

হিন্দু ও মুসলমানদের আবেদন

হিন্দু ও মুসলমানদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল করে। দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেন, বাদী বিবাদী কোনো পক্ষই জমিটি ভাগ করতে চান না।

ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়

ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের কণ্টকিত ইতিহাসে বাবরি মসজিদে হামলা একটি ‘কলঙ্কিত অধ্যায়’। গুটি কয়েক হিন্দু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দিনটিকে সূর্য দিবস বলে আখ্যায়িত করলেও বেশিরভাগ ভারতীয় দিনটিকে ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেন। অনেকেই বলেন, এ ঘটনায় দেশের অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি একেবারে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল।

সৌজন্যে : যুগান্তর
সিলেটভিউ২৪ডটকম/৯ নভেম্বর ২০১৯/জিএসি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   বিএফএ’র প্রতিষ্ঠাতা জামিল চৌধুরীর শয্যাপাশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  •   বস্তা বস্তা পেঁয়াজ ফেলা হচ্ছে নদীতে!
  •   অবশেষে বিএনপি নেতা হাকিম ও কালামের ঠাঁই হলো উপজেলায়
  •   সিলেটে তিনদিনে কর আদায় ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা
  •   হবিগঞ্জে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষার্থী ৩৯ হাজার ৯৯৪ জন
  •   বাংলা ট্রিবিউনের সাব এডিটর ফেঞ্চুগঞ্জের মনসুর আলীর লাশ উদ্ধার
  •   সিলেট জেলা যুবদলের বর্ধিত সভার চিঠি বিতরণ শুরু
  •   মাইগ্রেনব্যথায় যেসব খাবার ভুলেও খাবেন না
  •   দরবস্ত ইউনিয়নের সাবেক সদস্যের উপর দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সভা
  •   সিলেটের সকল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষাব্যয় কমানোর দাবি
  •   কী করে বুঝবেন আপনার পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে
  •   দুধ রসুন একসঙ্গে খেলে সারবে ৪ রোগ
  •   ছাতকে শিলং তীর খেলায় অপরাধে ২ জুয়াড়ীকে কারাদন্ড
  •   সিলেট বর্ডার গার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে নতুন সেক্টর কমান্ডারের মতবিনিময়
  •   রোহিঙ্গা হত্যায় আন্তর্জাতিক আদালতের তদন্ত প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের
  • সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক খবর

  •   রোহিঙ্গা হত্যায় আন্তর্জাতিক আদালতের তদন্ত প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের
  •   মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করতেই আসামের এনআরসি: মার্কিন প্রতিবেদন
  •   শ্রীলংকায় মুসলিম ভোটারদের গাড়িবহরে হামলা
  •   ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রতিবাদ
  •   দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইমরানের বৈঠক
  •   রোহিঙ্গা সঙ্কট বিষয়ে জাতিসংঘে রেজুলেশন পাস
  •   ১৩ হাজার ফুট উচ্চতায় প্রাচীন শহরের খোঁজ
  •   তাজমহল বা কাশী-মথুরার মসজিদ কি অক্ষত থাকবে?
  •   সিদ্ধ তিনটি ডিমের দাম ১৯০০ টাকা, বিল দেখেই চোখ কপালে!
  •   বিয়ের মণ্ডপে কনস্টেবল ফিরিয়ে দিলেন ১১ লক্ষ টাকা পণ
  •   বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে মমতা কেন নীরব?
  •   রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে সুচির বিরুদ্ধে প্রথম মামলা
  •   ঘুমন্ত পরিবারে ইসরাইলি হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ৮
  •   ১৭ বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
  •   রাম মন্দির ও কাশ্মীরের পর মোদীর টার্গেট এখন কী