আজ মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১ ইং

জাপানে বাড়ছে মুসলমান

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০১-২২ ১৯:১২:৩২

সিলেটভিউ ডেস্ক :: পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র জাপান। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর, চীন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার পূর্ব দিকে উত্তরে ও খোত্স্ক সাগর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব চীন সাগর ও তাইওয়ান পর্যন্ত প্রসারিত। যে কাঞ্জি অনুসারে জাপানের নামটি এসেছে, সেটির অর্থ ‘সূর্য উৎস। জাপানকে প্রায়ই ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’ বলে অভিহিত করা হয়।

উদীয়মান এই সূর্যের দেশে ইসলাম কিভাবে এসেছিল তার নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। যতটুকু জানা যায় সম্ভবত উসমানি খেলাফতের সময় সুলতান আব্দুল হামিদ সর্বপ্রথম ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে নৌপথে তাঁর জাহাজ ‘আর্তগর্ল’-এ এক সৌজন্যমূলক মিশন জাপানে পাঠিয়েছিলেন। বাহ্যত তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, এ অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াতের সম্ভাবনা সম্পর্কে সমীক্ষা চালানো। প্রতিনিধি দলটি জাপানে খুব ভালো প্রভাব সৃষ্টি করে। মূলত তাঁরা এ অঞ্চলে ইসলাম কবুলের বীজ বপন করে যান।

জাপানের প্রথম মুসলিম কে ছিলেন তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে মজার বিষয় হলো, জাপানের প্রথম মুসলিম হিসেবে যে দুজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়, তন্মধ্যে একজনের নাম তুরাজিরু। তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয় আব্দুল খলিল। আর অপরজনের নাম ছিল সোতারো নোডা। তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিক। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয় আব্দুল হালিম। (https://www.islamcenter.or.jp/history-of-islam-in-japan/)

একসময় জাপানে মুসলিমরা সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তার চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। গত এক দশকে সেখানে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে মসজিদের সংখ্যাও বেড়ে গেছে।

জাপানের ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটির টানাডা হিরোফুমির এক জরিপ অনুযায়ী, ২০১০ সালে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ছিল এক লাখ ১০ হাজার। কিন্তু ২০১৯ সালের শেষের দিকে সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ৩০ হাজারে।  এর মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ধর্মান্তরিত হয়েছে।  https://newsonjapan.com/html/newsdesk/article/129618.php

একসময় জাপানের মুসলিম শিশুদের ইসলামী শিক্ষা দেওয়া অনেক কঠিন ছিল। যেহেতু এখানে কোনো ইসলামী স্কুলের ব্যবস্থা ছিল না। অনেক বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি প্রবাসীরা তাদের সন্তানদের ইসলাম শিক্ষা গ্রহণের জন্য সেসব দেশে পাঠিয়ে দিত। কিন্তু সমস্যা হলো সেসব  দেশের ভাষা-সংস্কৃতির সঙ্গে জাপানি ভাষা-সংস্কৃতির কোনো মিল নেই। বর্তমানে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। সৌদি আরবের অর্থায়নে সেখানে কিছু ইসলামিক স্কুল গড়ে উঠেছে। ফলে জাপানের মুসলিম শিশুরা এখন নিজেদের ভাষায় ইসলাম শেখার সুযোগ পাচ্ছে। https://www.islamcenter.or.jp/history-of-islam-in-japan/

বর্তমানে জাপানে বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিম পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়ছে। তাদের জন্য গড়ে উঠছে মুসলিম ফ্রেন্ডলি রেস্তোরাঁ, যেখানে হালাল খাদ্য পরিবেশনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। পর্যটকদের থাকার হোটেলগুলোতে রাখা হয় নামাজের ব্যবস্থা। https://www.japan-guide.com/e/e2302.html



সিলেটভিউ২৪ডটকম/ কালের কণ্ঠ /জিএসি-০৮

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন