আজ রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০ ইং

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে শক্ত অবস্থানে যাবে বাংলাদেশ

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-০৮-২৩ ১৯:৩৮:০৩

সিলেটভিউ ডেস্ক :: মিয়ানমার থেকে বিতারিত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে যাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, আমরা এখন আরও জোড়ালোভাবে বলব- আমরা তোমাদের অনেক কথা শুনেছি। নাউ ইট ইজ ইউর রেসপন্সিবিলিটি।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপ-কমিটির এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা।

বাংলাদেশের কঠোর পদক্ষেপগুলো কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে যেভাবে কঠোর হওয়া যায়, সেই ভাবেই কঠোর হব।

রোহিঙ্গা সংকটের এই দায় জাতিসংঘ এড়াতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিশ্চয় এই দায় এড়াতে পারে না। জাতিসংঘ কিছুটা ব্যুরো করেছে। অনেক দিন ধরে এই বিষয়টা, এই যে হিংসা-বিদ্বেষ গড়ে উঠছে, কিন্তু তারা সেটা সেইভাবে তুলে ধরে না। একদিনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে না। এর আগে অনেক অনেক আলামত থাকে। তারা সেই আলামতে জোর দেন না। কিন্তু জোর দেয়া উচিত ছিল।

দ্বিতীয় দফায়ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করা না গেলেও এখনও বাংলাদেশ আশাহত নয় মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রসেসটা কিন্তু এখনও চলছে। আমরা আশা করি- রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাবে। তাই আমরা আশাহত নই। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে- মিয়ানমার তাদের বিতারিত লোকগুলোর মধ্যে আস্থা জন্মাতে পারেনি। এটার তাদের রেসপন্সিবিলিটি। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে বিশ্বাস করছে না। আমরা যা যা করা সব করেছি। তাদের ফেরত দিতেও আমরা তৈরি।

বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মিয়ানমারকে আবারও বলব- তোমরা অঙ্গীকার করেছ তোমাদের লোকদের ফেরত নেবে। এখন এর জন্য যা যা করা দরকার তা তোমরা কর।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার আমাদের বন্ধু দেশ। এ ছাড়া সারা বিশ্বের আমাদের সব বন্ধু রাষ্ট্রকে আমরা বলব- আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু রোহিঙ্গারা কিছু দাবি তুলেছে, মিয়ানমারকে তার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। এর সম্পূর্ণ দায় মিয়ানমারের।

যেহেতু মিয়ানমার জোর করে রোহিঙ্গাদের বিতারিত করেছে, তাই তারা তাদের আস্থা অর্জনে কতটা আন্তরিক হবে- সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতায় ঘাটতি রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবস্থা সারা বিশ্বের কাছে খুব ভালো। তাছাড়া আগে যারা মিয়ানমারের পক্ষে ছিল। যেমন ধরেন চীন, রাশিয়া; ইন্ডিয়া আগে একটু যদি ছিল কিন্তু এখন তারাও একবাক্যে স্বীকার করছে- রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। এই এলাকার ভালোর জন্য সেটা যত তাড়াতাড়ি হয় তত ভালো। এটা তারাও বলছে- রোহিঙ্গারা বেশিদিন থাকলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তাহিনতা ও অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে।

মিয়ানমারে চীন, ইন্ডিয়া, রাশিয়ার বিনিয়োগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফলে এই গোটা অঞ্চল উন্নয়নের মহাসড়কে যে যাত্রা শুরু করেছে; সবার যে প্রত্যাশা, সেটাতে ব্যাঘাত ঘটবে। সুতরাং নিজেদের তাগিদে শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য মিয়ানমারকে তাদের লোকদের বুঝাতে হবে। এ ছাড়া সবগুলো আশিয়ান দেশের বড় দ্বায়িত্ব হল মিয়ানমারকে বলতে হবে- তুমি তোমার লোকদের ফেরত নাও। আর আমরাও আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

দুইবার উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পরে বাংলাদেশের কৌশলের কোনো পরিবর্তন আনা উচিত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের অবস্থান আমরা একটু শক্ত করব। এ ছাড়া চিন্তা-ভাবনা করছি আন্তর্জাতিক কমিশন যোগাড় করব। যারা বাংলাদেশে নয়, রাখাইনে কাজ করবে। আমরা ইউএনএইচসিআর, আইওএমসহ যারা আছে তাদেরও আমরা বলছি- আমাদের এখানে থেকে লাভ নেই। তোমরা বরং রাখাইনে যাও, মিয়ানমারে যাও। রোহিঙ্গাদের জন্য বসবাসের পরিবেশ তৈরি কর। আমার রোহিঙ্গাদের মোটামুটি ভালো রেখেছি। তোমাদের বড় দায়িত্ব মিয়ানমারে যাও, তাদের বুঝাও। তা না হলে তোমরা কিসের জন্য তাদের (মিয়ানমারের) সঙ্গে ব্যবসা করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ব্যবসা মিয়ানমারের সঙ্গে। আমেরিকা এখনও তাদের জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে। এখনও মিয়ানমারের সব ব্যাংকিং হয় সিঙ্গাপুরের সঙ্গে। মিয়ানমারের ব্যবসা হয় আবুধাবি, ইউই-এর সঙ্গে। মিয়ানমারের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক ভালো। তোমরা এগুলো টেককেয়ার কর। এটা আমাদের দায়-দায়িত্ব না। মিয়ানমারের মানুষ আমাদের দেশে এসেছে। আমরা মানবতার খাতিরে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু এটা শুধু আমাদের মাথাব্যথা নয়। এটা গোটা বিশ্বের সমস্যা।

সৌজন্যে : যুগান্তর

সিলেটভিউ২৪ডটকম/২৩ আগস্ট ২০১৯/জিএসি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   সিঙ্গাপুরে ময়লার স্তূপ থেকে নবজাতক উদ্ধার, প্রশংসায় ভাসছেন দুই বাংলাদেশী
  •   ‘মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করতে যুবলীগকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে’
  •   দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উৎসব মুখর পরিবেশে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত
  •   প্রতিচ্ছবি’র তিন বছর পূর্তি ও অভিষেক উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা
  •   ছাতকে পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন
  •   বৃহত্তর দশগ্রাম সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের অভিষেক অনুষ্ঠিত
  •   সিলেটে বঙ্গবন্ধু জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু আজ
  •   শায়েস্তাগঞ্জে চারশত রোগিকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা
  •   সিলেটে ডাবল মার্ডার রহস্য: এ যেন ‘ক্রাইম থ্রিলার’!
  •   সিলেটে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা
  •   সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মাতাবে ‘জলের গান’
  •   সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
  •   ঘুম থেকে উঠে শিশুসন্তানকে ছাদ থেকে ফেলে দিলেন বাবা
  •   বড়লেখায় শাহবাজপুর মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
  •   সিলেট নগরীতে নির্মিত হবে ‘আইসিটি টাওয়ার’
  • সাম্প্রতিক জাতীয় খবর

  •   ঘুম থেকে উঠে শিশুসন্তানকে ছাদ থেকে ফেলে দিলেন বাবা
  •   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করল ভারতীয় হ্যাকাররা
  •   ভারত শিক্ষা দিয়েছে, পিয়াজ আনবনা : বাণিজ্য মন্ত্রী
  •   গরু আনতে ভারতে ঢুকে নিহত হলে দায় নেবে না সরকার
  •   চিনিকলে বিনিয়োগ করবে বিদেশি দু'টি ব্যাংক
  •   এগুলো কি ভালো সম্পর্কের নমুনা?: ভিপি নুর
  •   আমতলী সড়কে প্রাণ হারালেন মা-ছেলেসহ ৩ জন
  •   তিনদিনের শিশুকে বৃদ্ধার কোলে দিয়ে পালিয়ে গেলেন মা!
  •   শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করছেন শিক্ষকরা
  •   কালীগঞ্জে ইয়াবাসহ পু‌লি‌শ কন‌স্টেবল আটক
  •   চুল কাটার সিরিয়াল নিয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, যুবলীগ সভাপতি আটক
  •   সিলেটসহ সারা দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় ১০ পণ্যের ঝাঁজে অস্বস্তি বাজারে
  •   ‘এভাবে চললে খালেদা জিয়াকে জীবিত অবস্থায় বাসায় নিতে পারব না’
  •   ভাঙ্গা উপজেলাকে ইউরোপের মতো করে গড়ে তোলা হবে: রেলমন্ত্রী
  •   বিএনপি ফেয়ার ইলেকশন চায় না : আইনমন্ত্রী