আজ শনিবার, ৩০ মে ২০২০ ইং

গলির মুখে ‘লকডাউন’ সাইনবোর্ড, ভেতরে নামাজ আদায়ের চেষ্টা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৪-১০ ০০:১২:১৮

সিলেটভিউ ডেস্ক :: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পবিত্র শবেবরাতের রাতে মসজিদের পরিবর্তে বাসায় নামাজ আদায়ের অনুরোধ জানিয়েছিল ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়। দেশের রাষ্টপতি ও প্রধানমন্ত্রীও অভিন্ন অনুরোধ জানিয়েছেন মুসল্লিদের প্রতি। কিন্তু চট্টগ্রামের কিছু মুসল্লিকে দেখা গেল, তাঁরা গলির মুখে হাতে লেখা সাইনবোর্ডে ‘লকডাউন’ লিখে দিয়ে ভেতরের বড় বাসায় কিংবা বাসার ছাদে জামাতের মাধ্যমে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেছেন।

এমন তথ্য পেয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেনা ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেক অলিগলির মুখে লকডাউন লেখা সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছে। দেখে মনে হতে পারে, ওই গলির বাসাগুলোতে বাস করা মানুষ অত্যন্ত সচেতন। কিন্তু বাস্তবে না নয়, ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেছে, দোকানে দোকান খোলা। আবার কয়েকটি বাসার ছাদে বা খালি জায়গায় জামাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরেজমিন এমন দৃশ্য দেখে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি এবং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর প্রয়োজনে সরকারি আদেশ মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘পশ্চিম খুলশীর জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকার মসজিদে নামাজ আদায়ের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সোলায়মান এবং মসজিদের ইমাম ভবিষ্যতে আদেশ অমান্য করবেন না মর্মে মুচলেকা দেন।’

এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা নগরীর জিইসির মোড়, ওয়াসা, দুই নম্বর গেট, ষোলশহর, বায়েজিদ বোস্তামী এবং অক্সিজেন মোড় এলাকায় ঘুরে এই প্রতিবেদক দেখেছেন, নগরীর প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা। আগের দুই রাতের চেয়েও যানবাহন ও রিকশার সংখ্যা কম সড়কে। আগের রাতগুলোতে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল চোখে পড়লেও বৃহস্পতিবার রাতে সেই দৃশ্য খুবই কম চোখে পড়েছে। বলতে গেলে পুরো নগরীরই ফাঁকা।

বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার। অন্য বছরের শবেবরাতের রাতে এখানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে বায়েজিদ বোস্তামী মাজার গেটেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসল্লি দেখা যায়নি।

নগরীর প্রধান সড়ক ফাঁকা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগরীর প্রধান সড়কগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা। জনমানব নেই। আগের রাতে গুটি কয়েক রিকশা দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার রাতে রিকশাগুলোও নেই। জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত যানবাহন ছাড়া অন্য গাড়ি সড়কে নামতে দিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ। এই কারণেই সড়ক কার্যত ফাঁকা।’

সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ

সিলেটভিউ২৪ডটকম/১০ এপ্রিলর ২০২০/মিআচৌ

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন