আজ শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০ ইং

গোয়াইনঘাটে প্রস্তুত এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী!

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৩-২৬ ২০:০২:৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় স্থানীয় উদ্যোগে করোনা ভাইরাস সচেতনতা মূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার জন্য ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন।

উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন থেকে স্বেচ্ছায় প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবী নিজেদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সিলেটের সীমান্তবর্তী জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলাটি নানা কারণে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলাটির উত্তরপূর্ব পার্শ্বে রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া ও জৈন্তিয়া পাহাড়। দেশের অন্যতম স্থল বন্দর তামাবিল হয়ে প্রতিদিন ভিন্ন দেশের মানুষের পাশাপাশি নানা ধরনের পুন্য দেশে প্রবেশ করছে।

অপরদিকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ উপজেলার মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাছাড়া এ উপজেলার মানুষ জন শরীর স্বাস্থ্য বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন নয়। ফলে প্রবাসী অধ্যুশিত সীমান্ত এলাকা ও তামাবিল স্থলবন্দরের কারণেই করোনা ভাইরাস ঝুঁকিতে একেবারে অসম্ভব নয়। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও জাতির সত্তাকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত করার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও মহান সৃষ্টি কর্তার অশেষ মেহেরবানীতে এই বিশাল আয়তনের জনপদে এখনোও পর্যন্ত উক্ত ভাইরাস আক্রমণ করতে পারেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিবের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাস, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে থানা পুলিশ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এছাড়াও গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর দিলীপ কান্ত নাথসহ সরকারি প্রতিটি অধিদপ্তর, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীদের সচেতনতা মূলক নানা কার্যক্রম জোরেশোরে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির পাশাপাশি উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধির সভাপতি করে পৃথক পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি কমিটির কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি একজন কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

তাছাড়া গোয়াইনঘাট উপজেলায় করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী ওই আতঙ্ককে পুঁজি করে অধিক মুনাফা অর্জনের আশায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম অতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি করেন। এবং ক্রেতাদের হয়রানি করার অপপ্রচেষ্টা চালায়। বিষয়টি গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে ১১ টি হাটবাজারে ৪৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজার মূল্যে স্থীর করেন।

বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলায় ২৪৬ প্রবাস ফেরত ভাই-বোনেরা নিরাপদ স্থানে বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে কীটনাশক জাতীয় বিভিন্ন ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার মো. রেহান উদ্দিনসহ প্রত্যেক চিকিৎসক যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী পৃথকভাবে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ২৬ মার্চ ২০২০/এমএএম/এসডি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন