আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ ইং

বিশ্বনাথে জালিয়াতি: জামায়াতের আমীরসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৯-২৯ ০০:১২:১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিশ্বনাথ:: সিলেটের বিশ্বনাথে প্রকৃত মালিকানা গোপন এবং খতিয়ান ও উত্তরাধিকারী সনদ জাল করে জায়গা দলিল সম্পাদন করার অভিযোগে গত ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আমল গ্রহনকারী ৩ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার বেতসান্দি আলমনগর গ্রামের মৃত ইছকান্দর আলীর কন্যা নেহার বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিশ্বনাথ সি.আর মামলা নং ১৫৮/২০২০ইং।


মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে উপজেলার বেতসান্দি আলমনগর গ্রামের মৃত হাজী সিকন্দর আলীর ছেলে ও বাদীর চাচাতো ভাই জামায়াত নেতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী আকদ্দছ আলীকে। এছাড়া অলংকারী ইউনিয়ন এডুকেশন সোসাইটির পক্ষের বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের আমীর আবদুল কাইয়ূম ওই দলিলের গ্রহীতা হওয়ায় তাকেসহ মামলায় মোট ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে মামলায়।

অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- আকদ্দছ আলীর ভাই লিয়াকত আলী, মন্তাজ আলী, বোন সোনারা বেগম, মায়ারুন নেছা, আশিকুন নেছা, আনোয়ারা বেগম, মিনারা বেগম, মা পরতিঙ্গা বেগম, বাদীর বোন ছালেহা খাতুন, উপজেলার টেংরা গ্রামের মৃত সৈয়দ তছির আলীর ছেলে সৈয়দ বদরুল আলম, খুরমা গ্রামের মৃত আইয়ূব আলীর ছেলে আবদুর রহমান এবং বড়তলা গ্রামের মৃত কুরবান আলীর ছেলে মাহমুদ আলী।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ২০০৮ সালের ২০ অক্টোবর অভিযুক্ত আকদ্দছ আলী এবং তার ভাই-বোন ও মাতা বিশ্বনাথ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে একটি দলিল রেজিষ্ট্রারী করেন। দলিল নং ২৬৮৬। ওই দলিলে বেতসান্দি মৌজার ২৩ ও ২৬ নং দাগ এবং পিটাকরা মৌজার ৩৯৪, ৩৯৬ ও ৩৯৭ দাগের ভূমি অলংকারী ইউনিয়ন এডুকেশন সোসাইটির নামে রেজিষ্ট্রারী করে দেয়া হয়। সোসাইটির পক্ষে গ্রহীতা হিসেবে দলিলে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান উপজেলা ছত্তিশ গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে ও বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের আমীর আবদুল কাইয়ূম এবং সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ও টেংরা গ্রামের মৃত সৈয়দ তছির আলীর ছেলে সৈয়দ বদরুল আলম।

বাদীর অভিযোগ, বেতসান্দি মৌজার ২৩ নং দাগের মালিক মৃত সিকন্দর আলী ও মৃত ইসকন্দর আলীর উত্তরাধিকারী এবং তাদের বোন। কিন্তু রেজিষ্ট্রারীকৃত ওই দলিলে সিকন্দর আলীর আলীর উত্তরাধিকারীরা ষোলআনা মালিক উল্লেখ করে দাগের বিএস খতিয়ান ৮১২ স্থলে ১১ খতিয়ান দেখানো হয়। একই মৌজার ২৬ নং দাগের ভূমি মৃত ইসকন্দর আলীর ছেলে মকরম আলী গেদা মিয়া ও মৃত সিকন্দর আলীর ছেলে মকদ্দছ আলী মখন মিয়ার ব্যক্তিগতভাবে ক্রয়কৃত। কিন্তু ৬৩৫০ নং দলিল মূলে অভিযুক্তরা উত্তরাধিকারী দাবি করে দাগের খতিয়ান ৮২৯ এর স্থলে ১২ উল্লেখ করেন। পিটাকরা মৌজার ৩৯৪ ও ৩৯৭ নং দাগের মালিক মৃত সিকন্দর আলী ও মৃত ইসকন্দর আলীর উত্তরাধিকারীগন। কিন্তু মৃত সিকন্দর আলী উত্তরাধিকারীরা এককভাবে ষোলআনা মালিক বলে তা রেজিষ্ট্রারীকৃত ওই দলিলে উল্লেখ করেন এবং দাগের খতিয়ান জাল করা হয়। একই মৌজার ৩৯৬ নং দাগের প্রকৃত মালিক আলমনগর জামে মসজিদ। কিছু আকদ্দছ আলী এবং তার মা ও ভাই-বোনেরা সেই দাগেরও ষোলআনা মালিক বলে তা বিক্রি করেন এবং ওই দাগেরও খতিয়ান জাল করেন। 

মামলার প্রধান অভিযুক্ত জামায়াত নেতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী আকদ্দছ আলীর সাথে এব্যাপারে মুঠোফোনের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল কাইয়ুম সিলেটভিউকে বলেন, মাদ্রাসার জন্য জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে। এখানে জাল করে দলিল সম্পাদন করার বিষয়টি আমার জানা নেই। মাদ্রাসা করার জন্য জমি রেজিষ্ট্রি করার প্রয়োজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আকদ্দছ আলী আমাকে এমনটাই বলেছেন, আর আমি এতটুকুই জানি।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০/ প্রনঞ্জয়/ কেআরএস

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন