আজ বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ ইং

জৈন্তাপুরে মাদ্রাসা'র অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগ, ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-১১-২১ ২০:২৪:৪৮

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত মহিলা মাদ্রাসার অর্থ-আত্মসাত, বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন এলাকাবাসী।      

সাবেক পরিচালকের সেচ্ছাচারিতায় মাদ্রাসা এখন প্রায় ধংসের পথে। মাদ্রাসার সার্বিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে দুই ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের একাত্বতা ঘোষণা করেছেন।      
 
জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলা সদরে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জৈন্তিয়া জামিয়া ইসলামিয়া নামে একটি মহিলা মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের সম্পৃক্ততা থাকলেও বর্তমানে নিজের স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের লক্ষ্যে মাদ্রাসার পরিচালক এডভোকেট আব্দুল আহাদ মাদ্রাসার নামে ব্যবসার ফন্দি শুরু করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। শিক্ষানুরাগী প্রতিষ্ঠাকালিন ব্যক্তিদের সরিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে মাদ্রাসার কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। স্থানীয় ব্যক্তিদের দেওয়া জমি আর একজন প্রবাসীর টাকায় গড়ে উঠা ভবনে মাদ্রাসার পাঠদান চলে আব্দুল আহাদের একক কর্তৃত্বে।     

কমিটিতে স্থান নেই দাতা কিংবা প্রতিষ্ঠাকালিন কোন সদস্যের। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময় অনিয়ম-দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন মাদ্রাসার সুপারকেও বদল করেছেন তিনি।
  
উপজেলার একমাত্র মহিলা মাদ্রাসা নিয়ে এডভোকেট আব্দুল আহাদের বাণিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী গত ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দিলে ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি সরেজমিন তদন্ত করেন এবং ৫ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।       

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সোলাইমান হোসেন তদন্ত প্রতিবেদেনে উল্লেখ করেন, সকল হিসাব মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটা কখনো মানা হয়নি। উক্ত হিসাবে সংগৃহিত তহবিলের আয়-ব্যয় ও নগদ টাকার হিসাব বিধি মোতাবেক পরিচালিত বা কোন রেকর্ড মেনটেইন করা হয় নাই। সংগঠনের একক কর্তা ব্যক্তি হিসাবে তার নিকট আত্মীয়দের দিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, মাদ্রাসাটি তার নিজনামীয় ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত, সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত বা সংগঠনের মাদ্রাসা বলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে দান-অনুদান ও নগদ টাকা গ্রহন করে এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততা ছাড়াই নিবন্ধনহীন এই সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এলকাবাসী সহ সর্বসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।  


সর্বশেষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার’র সাথে এলাকাবাসী বৈঠক করলে তিনি মাদ্রাসার পাঠদানের কথা বিবেচনা করে বর্তমান সুপারকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করেন এবং সহকারী সুপার হিসেবে একজন সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একই সাথে সম্প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গঠিত কমিটি'র মাধ্যমে মাদ্রাসা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করার প্রতি আহবান জানান তিনি।

এ বিষয়ে শনিবার সকাল ১১টায় মাদ্রাসা সংলগ্ন মাঠে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আখলাকুল আম্বিয়া চৌধুরী'র  সভাপতিত্বে ও সদস্য হানিফ আহমদের পরিচালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিরাজুল ইসলাম, আব্দুস শুকুর, হায়দার আলী, দেলোয়ার আহমদ মাসুক, কবির আহমদ, আলহাজ্ব জহির উদ্দিন, আব্দুর রহমান, ইউপি সদস্য ইসমাইল আলী, আব্দুস শুকুর হরুহুনা, আলাউদ্দিন আলাই, পারভেজ আহমদ, জহিরুল ইসলাম, জাকির হোসেন, মুহিব আলী, আব্দুল মালিক পাখি, আলতাফুর রহমান, হোসনে আহমদ, আবুল হোসেন, সাব্বির আহমদ, আব্দুল করিম, ফিরুজ আলী, বতাই মিয়া, আব্দুল হান্নান, মাসুক আহমদ, মাসুদ আহমদ, আবুল হাসিম, তালহা আব্দুল্লাহ বাবু, তাফসিরুল ইসলাম পলাশ, মোস্তাক আহমদ, মনজুর আহমদ, আজিজুর রহমান, আব্দুল হান্নান প্রমুখ।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ২১ নভেম্বর ২০২০/হানিফ/জুনেদ

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন