আজ বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০ ইং

কাতারে শর্তসাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের অনুমতি

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৭-২৭ ১৪:১৮:০৫

শুয়াইব আহমদ, দোহা কাতার :: পবিত্র ঈদুল আজহা। সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। পবিত্র এই দিনটিতে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের আশায় পশু কুরবানী করে থাকেন।

ঈদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের বিষয় হচ্ছে ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ শেষে সকলের সাথে কুশলাদি বিনিময় করা কিন্তু সম্প্রতি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাস এই আনন্দটাকেও বিলীন করে দিয়েছে। কারণ করোনা সংক্রমণ রোধে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা।

করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবে শুরু থেকেই করোনা সংক্রমণ রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেওয়া হয় নানামুখী উদ্যোগ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতারেও করোনা সংক্রমণ রোধে প্রথম থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, পাবলিক বাস, মেট্রোরেলসহ জনসমাগমের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো।

দেশটিতে বসবাসরত জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে গত ঈদুল ফিতরের নামাজ ঈদগাহে, মসজিদে এমনকি যেকোনো যায়গায় একত্রিত হয়ে আদায়েও ছিলো নিষেধাজ্ঞা।

কাতার সরকারের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের গ্রহণীয় বিভিন্ন পদক্ষেপে বর্তমানে দেশটিতে করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। সংক্রমণ হ্রাস পাওয়ায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে কাতার। ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা।

এর ধারাবাহিকতায় আগামীকাল (২৮ জুলাই) মঙ্গলবার থেকে শর্তসাপেক্ষে আরও কিছু মসজিদ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, জিম, সুইমিংপুল, সেলুন, বিউটি পার্লার খোলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে এবারের ঈদুল আজহায় দেশটিতে বসবাসরত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সরকার নির্ধারিত বেশকিছু ঈদগাহ ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য শর্তসাপেক্ষে খোলে দেওয়া হবে।

প্রথম শর্ত  -ঈদের নামাজে যারা অংশগ্রহণ করবেন তাদের  অবশ্যই মোবাইলে কাতার জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শারীরিক সুস্থতা নির্ণয়ের সফটওয়্যার এহতেরাজ সংযুক্ত  থাকতে হবে। এহতেরাজ সফটওয়্যারে শারীরিক সুস্থতা নির্ণয়ের কিউআর কোড যদি সবুজ বর্ণের হয় তবেই তিনি নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

দ্বিতীয় শর্ত - বাসা থেকে অজু করে সাথে নিজস্ব জায়নামাজ নিয়ে যেতে হবে এবং কেউ যদি কোরআন তেলাওয়াত করতে চান তবে সেটাও বাসা থেকে সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।

তৃতীয় শর্ত - মাস্ক ও গ্লাভস বাধ্যতামূলক এবং নামাজের স্থানে পারস্পরিক দূরত্ব কমপক্ষে দেড় মিটার থাকতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন এমন কেউ নামাজে অংশগ্রহণ গ্রহণ করতে পারবেন না।
 
পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে দেশটির সরকারের এমন সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত ধর্মপ্রাণ মুসলমান।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/২৭ জুলাই ২০২০/এসএ/এসডি

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন