আজ শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯ ইং

ঈদে ঘুরে আসুন বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-০৮-১৩ ১০:২৪:৪৮

জসিম উদ্দিন, বানিয়াচং :: ঈদের ছুটিতে সবাই কমবেশি ঘুরতে বের হয়। কেউ দেশের বাইরে, কেউ দেশের ভিতরে। কেউ নিজের শহরে, কেউ বা আবার যান্ত্রিক শহর ছেড়ে প্রাণ ভরে প্রাকৃতিক হাওয়া আর একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস নিতে ভ্রমণের জন্য বেছে নেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কোনো স্থান।

এই ঈদের লম্বা ছুটিতে তাই ভ্রমণের জন্য আপনার পছন্দের তালিকায় যুক্ত করতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ঐতিহাসিক নিদর্শনে ভরপুর বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং। কমলা রাণীর দিঘি, বিথঙ্গলের আখড়া, লক্ষীবাওর জলাবন, রাজবাড়ি ধ্বংসাবশেষ, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট বানিয়াচংকে খুব সহজেই অন্যান্য গ্রাম থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে।

কমলারাণীর দিঘি
বানিয়াচং গ্রামের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঐতিহাসিক কমলারাণীর দিঘি। আয়তনে বিশাল বড় হওয়ায় এই দিঘীকে স্থানীয়রা সাগরদিঘি নামে ডেকে থাকেন। প্রায় ৬৬ একর আয়তনের এই দিঘী। প্রায় ১ কি.মি দৈর্ঘ্য এবং ১ কি.মি প্রস্থ এ দিঘী খুব সহজেই পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। দিঘীর চারপাড়ে হরেক রকম গাছপালা ও বিশুদ্ধ বায়ু আপনার প্রাণ ভরে দেবে।

জানা যায়, প্রায় দ্বাদশ শতাব্দিতে রাজা পদ্মনাভ প্রজাদের জলকষ্ট নিবারণের জন্য বানিয়াচং গ্রামের মধ্যভাগে একটি বিশাল দিঘি খনন করার ইচ্ছা পোষন করেন। পরে রাজার কথামত দিঘি খনন করা হল। কিন্তু দিঘি খননের পর সেখানে পানি উঠছিল না। পরে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে রাজা পদ্মনাভের স্ত্রী রাণী কমলাবতী এ দিঘিতে আত্মবিসর্জন দেন বলে একটি উপাখ্যান এ অঞ্চলে প্রচলিত আছে। এ জন্য এ দিঘিকে ‘কমলারাণীর দিঘি’ নামে অবিহিত করা হয়। এ দিঘি নিয়ে বাংলা সিনেমাসহ রেডিও, মঞ্চ নাটক রচিত হয়েছে। এই দিঘির পাড়ে বসে পল্লী কবি জসিমউদ্দিন ‘রাণী কমলাবতীর দিঘি’ নামে একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। সে কবিতাটি তাঁর ‘সূচয়নী’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এ দিঘিটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দিঘি বলে খ্যাতি রয়েছে। ১৯৮৬ সালে দিঘিটি পুনঃখনন করান ঐ গ্রামেরই স্বনামধন্য তৎকালীন মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খাঁন। বর্তমানে ৬৬.০০ একর জায়গা নিয়ে দিঘিটি বিস্তৃত। তন্মধ্যে জল সীমানা রয়েছে ৪০.০০ একর এবং চার পাড় মিলে রয়েছে ২৬.০০ একর।

বিথঙ্গল আখড়া
বৈষ্ণব্ধর্মালম্বীদের জন্য অন্যতম তীর্থস্থান বিথঙ্গল আখড়া। বানিয়াচং উপজেলা সদর থেকে ১২ কি.মি দক্ষিণ-পশ্চিমে হাওড়পাড়ে বিথঙ্গল গ্রামে অবস্থিত। এই আখড়াটির প্রতিষ্টাতা রামকৃষ্ণ গোস্বামী। জানা যায়, রামকৃষ্ণ গোস্বামী উপমহাদেশের বিভিন্ন তীর্থস্থান ভ্রমণ শেষে ষোড়শ ঐ স্থানে আখড়াটি প্রতিষ্টা করেন। এই আখড়াটির বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে এতে ১২০ জন বৈষ্ণবের জন্য রয়েছে ১২০ টি কক্ষ। এ আখড়ায় সারাবছরই বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় উৎসব হয়। আখড়ার দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে ২৫ মণ ওজনের শ্বেত পাথরের চৌকি, পিতলের তৈরি সিংহাসন, সুসজ্জিত রথ, রোপার পাত্র ও সোনার মুকুট উল্লেখযোগ্য। মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীর অনুকরণে নির্মিত এই আখড়াটি পর্যটকদের জন্য বিশেষ দর্শনীয় স্থান হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছে।
 
নাগুরা ফার্ম
জেলা সদরের কাছে বানিয়াচং উপজেলা থেকে ১৫ কি.মি দক্ষিণ-পূর্বে নাগুরা নামক স্থানে উপমহাদেশের প্রথম গভীর পানিতে চাষ উপযোগী ধান উদ্ভাবনকারী এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। দাপ্তরিকভাবে ‘বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, নাগুরা’ নামে অভিহিত হলেও সর্বসাধারণের কাছে এটি ‘নাগুরা ফার্ম’ নামে সমধিক পরিচিত। ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্টিত এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উদ্ভাবিত ধান বর্ষার পানির সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে উঠে। ফলে এ ধানের চারা কখনো তালিয়ে যায় না। এই ফার্মে উদ্ভাবিত হাইব্রিড জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রি-৫১, ব্রি-৫২, ব্রি-২৯, ব্রিআর-১৯ প্রভৃতি। নতুন প্রজাতির ধান উদ্ভাবনের পাশাপাশি এখানে ধানের পরীক্ষামূলক চাষ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশ লোকপ্রশাসক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাগণ তাদের প্রশিক্ষনের অংশ হিসেবে এই প্রতিষ্টানটি পরিদর্শন করতে আসেন। উল্লেখ্য যে, এই গবেষণাগারের সবুজ ক্যাম্পাসে নানা প্রজাতির হাজারো পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পাকির কলকাকলি আর মেধাবী বিজ্ঞানীদের সৃষ্টিশীলতায় এই ক্যাম্পাস ইতোমধ্যে একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছে।

লক্ষীবাওর জলাবন
বানিয়াচং উপজেলার লক্ষীবাওর সোয়াম্প ফরেস্ট (জলাবন) ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এক আকর্ষণীয় একটি পর্যটন স্পট। উপজেলার উত্তর সীমান্ত প্রান্তে খড়তি নদীর দক্ষিণ দিকে বিশাল হাওরের মধ্যে অবস্থিত এ জলাবন এলাকাবসীর কাছে ‘খড়তির জঙ্গল’ পরিচিত। কবে এই জঙ্গল সৃষ্টি হয়েছিল তা কেউ বলতে পারে না। এই জলাবনের প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র সত্যিই বিষ্ময়কর। চারদিকে হাওরের পানি আর জঙ্গলের অসংখ্য গাছপালাসহ সবুজ অরণ্য পরিবেশকে এক নান্দনিক রুপ দিয়েছে। দূর থেকে জঙ্গলটিকে দেখে মনে হবে পানির উপর বিশাল বড় কোনো গ্রাম ভাসছে। এই জলাবনে রয়েছে হিজল, করচ, বরুন, কাকুরা, খাগড়া, চাইল্যা ও নলসহ রয়েছে হরেক রকমের গাছগাছালি। এই জলাবনে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী জীবজন্তু। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মেছোবাঘ,শিয়াল, গুই সাপ, কেউটে, লাড্ডুকা, দারাইশ সহ বিষধর সাপ। বর্তমানে বিভিন্ন জাতের বক, পানকৌড়ী, বালিহাঁস দেখা গেলেওশীতকালে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয় নির্জন এই জলাবন।

এছাড়াও বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং ভ্রমণে আসলে দেখতে পারবেন অনেকগুলো হাওর-বাওর, রাজবাড়ি ধ্বংসাবশেষ, পুরাতন বিবির মোকাম মসজিদ, কালনী নদীসহ অসংখ্য আকর্ষনীয় স্থান। তাছাড়াও ব্র্যাকের প্রতিষ্টাতা স্যার হাসান আবেদের বাড়িও বানিয়াচংয়ে। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বিশ্ববরেণ্য এই ব্যক্তির বাড়ি।
 
যেভাবে যাবেন বানিয়াচং
ঢাকা হতে বাসে ৪ ঘন্টায় সরাসরি হবিগঞ্জ। তারপর সিএনজিতে ৩০ মিনিটে বানিয়াচং। ট্রেনে আসলে শায়েস্থাগঞ্জ নেমে সিএনজি অথবা লেগুনায় হবিগঞ্জ। তারপর সিএনজি করে বানিয়াচং। এছাড়াও সিলেট থেকে সরাসরি হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস বিরতিহীন বাসে হবিগঞ্জ। তারপর সিএনজিতে বানিয়াচং। সিলেট থেকে যারা আসতে চান তারা বাসে এসে আউশকান্দি নেমে নবীগঞ্জ হয়েও সিএনজিতে বানিয়াচং আসতে পারেন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/১৩ আগস্ট ২০১৯/জেইউ/ডিজেএস/মিআচ

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   স্পেন আওয়ামীগ নেতার শাশুড়ীর মৃত্যুতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
  •   জুড়ীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রবের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
  •   জকিগঞ্জে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত সদস্য নিহত
  •   রাতে মেয়রকে নিয়ে ঘুরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  •   বাড়ীর দলিল জিম্মি করে উচ্ছেদ করতে ভাইয়ের বসতঘর ভাংচুর
  •   আসছে সিলেট সিটির ‘বিগ বাজেট’
  •   জগন্নাথপুরে সরকারি জায়গায় ঘর বানানোর প্রস্তুতি!
  •   জগন্নাথপুরে ফুটপাতের দোকান থেকে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
  •   চীন আরও ৭৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যে শুল্ক বসালো
  •   ভ্যানিটি ব্যাগে মিলল ২৫ বোতল ফেনসিডিল
  •   জগন্নাথপুরে জন্মষ্টমী পালন
  •   বাংলাদেশের জয়া ও সালমা এখন ফিফার রেফারি
  •   জগন্নাথপুরে সাইদুল হত্যায় মামলা, যুবকের স্বীকারোক্তি
  •   জগন্নাথপুরে ৬ দিন ধরে কিশোরী নিখোঁজ
  •   প্রেমের টানে বাংলাদেশে ঘর বাঁধলেন ইন্দোনেশিয়ান তরুণী
  • সাম্প্রতিক হবিগঞ্জ খবর

  •   ‌‘সংখ্যালঘু শব্দটি ভুলে যেতে হবে’
  •   বাহুবলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোর নিহত
  •   সকালে মক্তবে আর রাতে ভিক্ষাকরে রাইমা
  •   বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের সিলেট বিভাগীয় সম্পাদককে ফুলেল শুভেচ্ছা
  •   আজমিরীগঞ্জে স্কুলছাত্র ও বৃদ্ধের আত্মহত্যা
  •   হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
  •   বাহুবলে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই, চার লাখ উদ্ধার
  •   চুনারুঘাট উপজেলা কৃষি অফিসে চালু হয়েছে 'কিয়স্ক' মেশিন
  •   বাহুবলের মিরপুর বাজারে ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন
  •   চুনারুঘাটে গাজীপুর ইউনিয়ন তাঁতীলীগের শোক দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
  •   হবিগঞ্জের বাহুবলে সড়ক দূর্ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু
  •   নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর জাতীয় পার্টির ঈদ পূণর্মিলনী
  •   বাহুবলের জাতীয় শোক দিবস পালিত
  •   মাধবপুরে জাতীয় শোক দিবস পালিত
  •   মাধবপুরে নৌকা ডুবে দুই নারীর মৃত্যু