আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

আমার বাবা, আমার পৃথিবী

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-০৬-১৬ ১১:৫৫:৩৩

বদরুল আলম :: বাবার জীবনটা অসম্ভব সাদা সিদে জীবন। প্রথম জীবনে একজন সফল কৃষক ছিলেন। মাঠে সোনা ফলানোই ছিল বাবার একমাত্র কাজ। পরিবারের একমাত্র অবলম্বন-ই ছিলেন বাবাই। একজন সফল কৃষক হিসেবে বাবার বেশ নাম-দাম ও ছিল। মধ্য বয়সে সন্তান-সন্ততি আর পরিবারের ভাগ্য বদলে তিনি পাড়ি দেন মধ্যপ্রাচ্যে। তারপর রচিত হয় নতুন এক সংগ্রামের ইতিহাস। কোন এক কবি বলেছিলেন, এখনো বেশ বাকী তবুও কিছু বলি। কিছুটা বলি। বিদেশে কত যে সমস্যার মুখামুখি হয়েছেন তিনি, তাঁর সঠিক হিসেব জানিনি।

ভিসা সংক্রান্ত সমস্যায় কত যে চোখের পানি ঝরেছে সেই পবিত্র ভূমিতে, তার হিসেব কেবল তিনিই জানেন। তারপর ভালো একটা চাকুরি ও পেয়েছিলেন। দেশে প্রত্যার্তন পর্যন্ত তিনি এই চাকুরীতেই নিয়োজিত ছিলেন। এখন বাবা জীবনের শেষ প্রান্তেই আছেন। সেদিন আমার প্রিয় ছোট ভাই সেবুল ইসলাম (মায়ের দেয়া নাম,শানু নামে বেশ পরিচিত) জিজ্ঞেস করেছিল, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেমন আছেন? তিনি বলেছিলেন, শুকরিয়া বেশ ভালো। দোয়া রইলো পৃথিবীর সব বাবারা যেন ভালো থাকেন। এই দিনে এই হোক মোদের প্রাথর্না।

অত্যন্ত সজ্জন হিসেবে বাবার পরিচিতির কমতি নেই। বাবার কথা বলতেই সবার মাঝে একজন আদশর্ , সৎ আর সরস-নিরস মানুষেরই প্রতিকৃতি চোখে ভাসে। তিনি জীবনে কাউকে কঠু কথা বলেননি। সহ্য করেছেন কত যন্ত্রণা। অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা। মা গল্প করেছেন বাবার পরিশ্রমের কথা কিন্তু বাবার প্রাপ্তি ছিল শুণ্য। তাঁর পা থেকে মাথা পযর্ন্ত ঘামের গন্ধ এখনো আমাদের অনুপ্রেরনা। আমার সব সময় মনে হয় যে, এলাকার মানুষের জন্য বাবার ছিল একবুক ভালোবাসা। তিনি অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন মানুষের কল্যানের প্রতি। তাই বারবার সুখে-দুখে, বিপদে-আপদে, সংশয়-সংকটে এলাকার মানুষের কাছেই থাকতেন। মানুষ তাঁকে দেখে আশ্বস্থ হয়েছে, ভরসা পেয়েছে, আস্থা ও বিশ্বাস হারায়নি।

খুব কাছ থেকে বাবার চোখের পানি দেখেছি। তিনি পাথর্িব বিষয়ে প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসেব কষতেন আর কাঁদতেন। আমাদের সান্তনা এডিয়ে গোপনে শুধু কেঁদেছেন। জানি, দুনিয়াতে এ কান্নার কোন দাম নেই কিন্তু আল্লাহর কাছে অনেক অনেক দাম। এ কান্না ছিল নেহাতই সন্তান সন্ততির জন্য। মা প্রায়ই বাবাকে সান্তনা দিতেন আর বলতেন , আল্লাহর ঘর খালি নেই। সকল নাজ নেয়ামতের মালিক তিনিই। তিনি পরম দয়ালু সৃষ্টিকতর্া। তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁকে রাজত্ব দান করেন, যাকে ইচ্ছা তার কাছ থেকে রাজত্ব কেড়ে নেন। তিনি সবর্ বিষয়ে ক্ষমতাবান ।

"অসমাপ্ত আত্মজীবনী" গ্রন্থে রবাটর্ জেন্কিন্স কর্তৃক Poet of Politics খ্যাত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫) উল্লেখ করেছেন " রেণু কয়েকদিন আমাকে খুব সেবা করল। যদিও আমাদের বিবাহ হয়েছে ছোটবেলায়। ১৯৪২ সালে আমাদের ফুলশয্যা হয়। জ্বর একটু ভাল হল। কলকাতা যাব, পরীক্ষাও নিকটবতর্ী । লেখাপড়া তো মোটেই করি না। দিনরাত রিলিফের কাজ করে কূল পাইনা। আব্বা আমাকে এ সময় একটা কথা বলেছিলেন, "বাবা রাজনীতি কর আপত্তি করব না, পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করছ এ তো সুখের কথা , তবে লেখাপড়া করতে ভুলিও না। লেখাপড়া না শিখলে মানুষ হতে পারবে না। আর একটা কথা মনে রেখ, 'Sincerity of purpose and honesty of purpose' থাকলে জীবনে পরাজিত হবা না। এ কথা কোনোদিন আমি ভুলি নাই। " বতর্মান প্রজন্মের কাছে এ বাতর্াটুকু পৌছে দিয়ে বলি, 'রাজনীতির কবি'র দেখানো পথে বদলে যাই। এখনই বদলের শ্রেষ্ঠ সময়।

 পৃথিবীর সব বাবারাও সততার কথা বলেন । ব্যতিক্রম খুবই কম।  ধমর্ কমর্ের প্রতি বাবার মনোযোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। ধামর্ীক হিসেবে তিনি প্রথম সারির-ই। রোজ সকালে বাবার যিকিরে , কুরআন তেলাওয়াতের শব্দে আমাদের ঘুম ভাঙ্গে , এখনো। খুব মনে পডে বাবা সব সময় নামাজের কথা বলতেন, এখনো বলেন। নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি, তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলতেনও বেশি। কাজকে কম গুরুত্ব দেননি । তিনি বলেন, কাজে বড় হও, কথায় নয়। প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাসের মা কুসুমকুমারী দাসের কবিতা থেকে বলি-

    "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
    কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
    মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
    মানুষ হইতে হবে’ – এই যার পণ ।"

পৃথিবীর সব বাবারা চান তাঁর ছেলেরা মানুষ হোক। চলুন এই দিনে আমরা মানত করি মানুষের মতো মানুষ হয়ে সব বাবাদের মুখে হাসি ফুটাবো।

আমার এই লেখা অপূর্নাঙ্গ, খন্ডিত এবং অসমাপ্তও বটে। কিন্তু সে আমার অক্ষমতা। পৃথিবীসম এমন একজন বাবাকে পুরোপুরি বলা যায় এ ক্ষুদ্র লেখায়। আমার জানা নেই, তবুও। কিন্তু এসব সীমাবদ্ধতা সত্তেও আমার মনে হয়, এমন বাবাদের আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে হবে। না, ঔচিত্য থেকে নয়, কর্তব্য কারনেও নয়, দায়িত্ববোধ থেকেও নয়- শুধু ভালোবাসার তাড়ানায়, মমতার কারনে, আর হৃদয়ের তাগিদে। এই লেখা ওই তিনটিরই সমষ্টি আর কিছু নয়।

লেখক: গবেষক ও প্রভাষক, তাজপুর ডিগ্রী কলেজ, সিলেট।

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   সিলেটে সমাবেশ দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি
  •   আরমান আহমদ শিপলুর সুস্থ্যতা কামনায় ছড়ারপাড়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
  •   অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন গহরপুর শাখার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা
  •   শোভন-রাব্বানীকে পদচ্যুত কোন্ এখতিয়ারে, প্রশ্ন বিএনপির
  •   রাখাইনে ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ
  •   কোম্পানীগঞ্জ সড়কে ট্রাক চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে সভা অনুস্টিত
  •   পরিবেশের বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ পেতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে-দিপক কান্তি পাল
  •   কবিতা ।। বি শ্বা স
  •   মুরারিচাঁদ কবিতা পরিষদের নয়া সভাপতি উমা, সম্পাদক সজল
  •   দক্ষিন সুরমার বিএনপি নেতা আখলাকুল আম্বিয়ার মুক্তি দাবী
  •   মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়ার পাশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন
  •   মদিনা মার্কেটে অবৈধ স্ট্যান্ড ও যানবাহনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান
  •   গ্রন্থাগারিকরা শিক্ষার উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন: সিকৃবি ভিসি
  •   জগন্নাথপুরে র‌্যাবের জালে আটকা পড়লেন ভূয়া ডাক্তার
  •   মাদ্রিদে বাংলাদেশী মালিকানাধীন ভূঁইয়া মনি ট্রান্সফারের নতুন শাখার শুভ উদ্ভধোন
  • সাম্প্রতিক মুক্তমত খবর

  •   স্বাধীন বাংলার উন্নয়ন ও বিচক্ষণ নেত্রী শেখ হাসিনা
  •   উপাচার্যদের হাত ধরে একেকটি বিশ্ববিদ্যালয় কি অন্ধকারে যাচ্ছে?
  •   জয়তু শেখ রেহানা
  •   প্রধানমন্ত্রীকে কাছে থেকে দেখতে চান সিলেটী মনিরুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী-সন্তান
  •   সহনশীল এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নবাব আলী আব্বাস খান
  •   যে শহর আমার || সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
  •   ব্রেক্সিট!
  •   আপনারা ভিআইপি আর আমরা অবহেলিত ট্রেন যাত্রী
  •   আমা‌দের সাইফুর রহমান, আমা‌দের মহসীন আলী
  •   এটিইও পদের চাকরি: বাস্তবতা ও প্রত্যাশা
  •   স্টোকসে ক্রিকেটের সৌন্দর্য আর আমাদের ক্রিকেট
  •   মহাপ্রলয়ের খেলায় নেমেছেন বোলসোনারো-ট্রাম্পরা
  •   আমার সামনে তখন লাশের স্তুপ...
  •   মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম-বদলে যাচ্ছে সাংবাদিকতা
  •   ২১ আগস্ট: একজন পথচারীর চোখে সেদিনের সেই নারকীয় বিকেল