আজ শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ইং

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়: প্রসঙ্গ ভিসি নিয়োগ

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২১-০৫-১৯ ২২:৪২:০৭

প্রফেসর ড. মোঃ আতী উল্লাহ :: আজকের এ লেখাটি আমি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর অবশ্যই খুব খোলামেলাভাবে লিখছি। একটি বড় উদ্দেশ্য নিয়েই লিখছি; এবং, এর অবতারনা যেভাবে হওয়া দরকার, আমি তা সেভাবেই করছি।

‘এ ক্ষুদ্র আমি’ দেশে-বিদেশে আজ একটানা সাড়ে ৪৪ বছরের আপাদমস্তক মূলত একজন বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষক। একমাত্র, সিলেটের “শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে”-ই প্রথম থেকে পি.আর.এল.-এ যাওয়া পর্যন্ত আমি প্রায় ২৯ বছর কাটিয়েছি। নিবিড়ভাবে অবলোকন করেছি ১০/১১ জন ভাইস চেন্সেলরের সার্বক্ষণিক কার্যক্রম। আমার ইংরেজি বিভাগে প্রায় ২৪ বছরের বিভাগীয় প্রধান ছাড়াও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলাম আরও প্রায় আড়াই বছর। একটি আবাসিক ছাত্র-হলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম পুরো ৭ বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলসহ বিভিন্ন তদন্ত কমিটি, সেন্ট্রাল ভর্তি-কমিটি, ভর্তি-উপকমিটি, বোর্ড অব এডভান্স্ড্ স্টাডিজ, অন্য বিভাগের হাইয়ার স্টাডিজ কমিটি (এমফিল, পিএইচডি সহ), সময়ে সময়ে গঠিত বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি, আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের বোর্ড অব গভার্নার্স-এর সদস্য, নিজ বিভাগসহ ঢাকা ও সিলেটের অন্যান্য প্রায় সকল প্রাইভেট (অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা কমিটি ও তাঁদের নিয়োগ-বোর্ড, কারিকুলাম প্রনয়ণ-কমিটি, সিলেটের বাইরের অনেক সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা কমিটি, ভাইভা বোর্ড, মডারেশন কমিটি, এমফিল/পিএইচডি-র থিসিস-পরীক্ষক ও ডিফেন্স-এক্সপার্ট, ইত্যাদিতে কখনো কন্ভিনার, আর কখনো বা সদস্য হিসেবে আজীবন কাজ করেছি; আর, করেছি এবং নীতির উপর সব সময় একাট্টাও থেকেছি।
আমার নিজ ইংরেজি বিভাগ ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত দেড়শ’টি নিয়োগ ও প্রমোশন বোর্ডে আমি আজীবন বসেছি, অনীতির সাথে কখনো কোন আপোষ করি নি। সৌভাগ্য আমার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মাননীয় ভিসিসহ দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিযশা বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ভিসি মহোদয়গণের সাথে আমার আলাপচারিতার সুযোগ হয়েছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভিসিমহোদয়গণকে আমি সম্মান করেছি এবং সম্মান দেখিয়েছি সমভাবে এবং যেখানেই সহযোগিতার প্রয়োজন পড়েছে, সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সাধ্যমত এগিয়েছি কখনো কোন পার্থক্য না করে।
এর ফলশ্রুতিতে, আমার বিভাগ কখনো কোনকিছু পাওয়া থেকে বঞ্চিতও হয় নি; আর, আমি কখনো অতিরিক্ত কিছু চাইও নি। আর, কোন ভিসি-র সাথে তোষামোদ করাটাকে আমি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করেছি আজীবন। বর্তমান যে ভিসি মহোদয় – অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ – শাবি-তে আছেন, প্রায় বছর খানেকের উপরে হবে, উনার সাথে আমার একদিনও সাক্ষাৎ হয় নি, যদিও এই করোনাকালেও প্রায়ই ক্যাম্পসে ও আমার বিভাগে যাই, যেহেতু আমার বাসস্থান ক্যাম্পাসের নিকটেই বলা যায়।

কিন্তু, ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ভিসি হিসেবে আমি শ্রদ্ধা করি বোধ হয় অতীতের সকল ভিসি-র চাইতে অধিক, এবং এই অধিক শ্রদ্ধার কারণ রয়েছে, হয় তো বা, হাজার খানেকের চাইতেও বেশি। উনি আজও ভিসি-ই আছেন, তবে আমি উনাকে ভিসি হিসেবে পেয়েছি মাত্র আড়াই বছরের মত। আর, এ এই আড়াই বছরের মধ্যে আমি উনার যে অভিজ্ঞতা, দুরদর্শিতা, দক্ষতা, স্পষ্টভাষিতা, সৎসাহসিকতা এবং কাজ উদ্ধার ক্ষমতা দেখেছি, তা বলা হবে বহুল্যমাত্র। এগুলো যে কোন একজন সফল প্রশাসকেরই সব সময় কাজে লাগবে ‘নেক্টর’ বা সন্জিবনী সুধার মত।
অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভিসি-র দায়িত্ব নিয়ে শাবি-তে আসার প্রথম দিন থেকেই শাবি যেন নতুন রূপ ধারণ করতে আরম্ভ করেছিল – যেন তার গায়ে বসন্তের হাওয়া লেগেছিল (অবশ্য, বোকার স্বর্গের আরব-বসন্তের মত নয়)। আর, আজকের এই করোনাকালেও সত্যিকার অর্থেই শাবি নতুন নতুন রূপে রূপায়িতই হচ্ছে দিন দিন। যে শাবি-তে একাডেমিক ভবনগুলোকে ব্যারেক বানিয়ে পুলিশ থেকেছে ১০ মাসেরও অধিক, সেই শাবি-তে আজ এক ঘণ্টারও সেশনজট নেই। সেমিস্টার-পরীক্ষার ফলাফল বের হয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মাথায়, অতীতে যেখানে লাগত কখনো কখনো এক থেকে দেড় বছর। শিক্ষকদের পরীক্ষার বিল যেত বছরে দুই বার মাত্র। আর,  তাও হত প্রায়ই দুই ঈদের পূর্বে। কিন্তু, এখন ঠিক নেই, কখন যে হঠাৎ-ই বা ব্যাঙ্ক থেকে এসএমএস আসে, এত এত টাকা পরীক্ষার বিল আপনার হিসাব নম্বরে ক্রেডিটেড হয়েছে। এই করোনাকালে এখন অবশ্য ভিন্ন কথা।

অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন মানুষকে অনেক বলতে শুনেছি “আর কি? শাবি পুরো পঁচে গেছে, এখান থেকে (সিলেট) এটাকে উঠিয়ে নোয়াখালিতে নিয়ে গেলে-ই তো ওখানে আর নতুন করে কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা লাগে না, কোটি কেটি টাকা বাঁচে” (অবশ্য এটা নোয়াখালিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বের কথা)! উনারা-ই এখন বলেন,”শাবি-র তুলনা হয় না”, আর, বলেন তো মাগনা না; কারণ, শাবি তো এখন অনেক র্যা ঙ্কিং-এ-ই ফার্স্ট। ’ড্রপ-কোর্স-কাল্চার’ শাবি থেকে এখন উঠেই গেছে। পূর্বে নন্-মেজর কোর্স পচিালনার দায়িত্ব ছিল কোর্স-অফারকারি বিভাগের হাতে; ফলে চলত স্বেচ্ছাচারিতা। এখন ঐ সমস্থ কোর্স পরিচালনার ভার শিক্ষার্থী যে বিভাগের, সে বিভাগের হাতে। এখন ব্যস্, সব টাইট।

অধিকন্তু, যে শাবি-তে একদিন চক কেনার মত পয়সাও ছিল না; বেতন দিতে না পারার ভয়ে যে শাবি থেকে মাত্র ৬ মাসের মাথায় একজন ভিসি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চুপে চুপে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই শাবি-র আজকের নন্-মেজর পাঠদানকারি প্রতিজন শিক্ষক উপযুক্ত একটি সম্মানী (প্রতি কোর্স, প্রতি সেমিস্টার ৩০,০০০/= টাকা) অতিরিক্ত পান, যে সম্মানীর প্রস্তাব উঠালেই অতীতে পুরস্কৃত হওয়ার পরিবর্তে উল্টো হতে হয়েছে তিরস্কৃত। প্রতিটি বিভাগে এখন রয়েছেন একজন নারি-শিক্ষক ছাত্রী-উপদেষ্ঠা এবং একজন পুরুষ-শিক্ষক ছাত্র-উপদেষ্ঠা; তারাও পান উপযুক্ত সম্মানী (এই দু’টি পদ কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন, এই ভিসি-র-ই সৃষ্টি, এবং এগুলো সেন্ট্রাল ছাত্র-উপদেষ্টা পদের অতিরিক্ত), ঐ যে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের রয়েছে ন্যায্য অধিকার (প্রয়োজনীয় ফাণ্ড) ছিনিয়ে আনার দুঃসাহস! এরকম সংস্কারের কথা বলতে গেলে বলব কত? শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপর উনার রয়েছে সার্বক্ষনিক নজর, বিশেষ করে ছাত্রীদের উপর। উনার পরিষ্কার কথা: “আমার মেয়েকে তো রাত ৮.০০ টার পর আমি বাইরে যেতে দেব না”?
কোন শিক্ষক, এমন কি, টার্ম-টেস্টে ১০ এর মধ্যে কম নম্বর দিলেই পড়েছে চা খাওয়ার ডাক! তখন, আমি নিজে নিজে বুঝে নিতাম, চা খাইয়ে কি-ই বা বলা হত? নিশ্চয়ই এরকম: “আপনি এত এত বড় মাপের প্রফেসর, আপনার ছাত্র আপনার কাছে তো পাওয়ার কথা ১০-এ ৯ বা ১০-ই । কারণ, এটা সেমিস্টার সিস্টেম, অপনার মাথায় প্রথমে ১০০%-ই সেভ করা থাকবে, না পারলে কতটুকুই বা নিচে নামা যায়? হয় তো ৯০/৮৫%, তাই না? আচ্ছা, এবার আসতে পারেন; আর, দ্বিতীয় বা প্রয়োজনে তৃতীয়, টার্ম-টেস্ট নিয়ে ম্বরশীটটা রিভাইজ করে দেবেন”।

কোন শিক্ষকের ফাঁকিবাজির কথা কোনমতে বেরিয়ে গেলেই চা-য়ের দাওয়াত! তখন, বলা-ই হত, “ভাল না লাগলে ইস্তাফা দিতেই তো পারেন। আপনি যা বেতন পান, আমি তো তা-ই পাই। কোনকিছু করতে না পারলে আমিই বা এখানে থাকব কেন? ছাত্রদেরকে জিম্মি করা যাবে না; ও.কে, পরে দেখা হবে”। কোন পরীক্ষক খাতা দিতে দেরি করলেই চা-য়ের আমন্ত্রন, ”আগামিকাল যত সকাল পারেন, মার্ক্স-শীটটা আমার হাতে এনে দেবেন”। চা-য়ের ভয়ে কন্ট্রোলার-অফিসসহ সকলেই সজাগ! মজার মজার সত্য-গল্প আমি আর বলব কত?

এ প্রসঙ্গে শুধু একটি কথা না বলে পারছি না। বিদায়-বেলা এমন একজন ভিসি আমি দেখেছি, একজন শিক্ষক/প্রশাসক হিসেবে আমার সৌভাগ্য আর কি হতে পারে? আর, এজন্যেই, অবসরে যাওয়ার পর (আর চাকুরি না করার ইচ্ছে থাকা সত্বেও, এবং, অনেটা বাধ্য হয়েই)  যে একটি ‘ইংলিশ সকুল-কাম-কলেজে (ন্যশনাল ও বৃটিশ কারিকুলাম)’ প্রিন্সিপাল হিসেবে ‘জয়েন’ করেছি, যেখানে রয়েছেন ২৭/২৮ জন শিক্ষক, ১২/১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি, প্রায় ২০ জন বোর্ড অব ডিরেক্টর্স-সদস্য, আর ‘ও’ এবং ‘এ্য’ লেভেলসহ মোট ১৫টি ব্যাচ, সেখানে নির্বিঘ্নে এবং সম্পূর্ণ সফলতার সাথে কাজ করতে আমি যথেষ্ট স্বাচ্ছন্ধ বোধ করছি।  
আজ শাবি একটি সম্পূর্ণ  র্যা গিং-মুক্ত ক্যাম্পাস। মনস্তাত্বিক বিষয়ে শিক্ষর্থীদেরকে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রথমবারের মত নিয়োগ দেয়া হয়েছে স্থায়ী একজন কাউন্সেলিং সাইকেরজিস্ট। কোন শিক্ষার্থীকে ১৫ দিন পাওয়া না গেলে হয়ে যায় রিপোর্ট। নেই কোন ছাত্র-আন্দোলন, নেই পরীক্ষা পেছানোর কোন বাহানা, নেই চাঁদাবাজি-টেন্ডরবাজি, নেই আবাসিক হলে বা ক্যাফেটেরিয়ায় কোন ফাও খাওয়া। শিক্ষকদের মধ্যে স্বভাবিক মত-পার্থক্য বরাবরের মতই আছে (যা ক্ষেত্র-বিশেষে প্রয়োজনও বটে), তবে নেই কোন শিক্ষক-নেতাবাজি, নেই কোন তোষামোদ-বাজি। উপযুক্ততা, কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যাকে যেখানে ফিট করা যায়, করা হচ্ছে  তা-ই। নিয়োগের বেলায় এ ভিসি-র নীতি হচ্ছে “বেস্ট অব দ্য বেস্ট” এবং তা হচ্ছে বিজ্ঞপ্তির সংখ্যার বাইরে গিয়ে নয়। এমন কি, হচেছ না বঞ্চিত কোন মাস্টাররোল কর্মচারিও।

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সৎসাহসী ও খোলামেলা ঘোষণা: “ আই এ্যম এ্য গুড ফান্ড- রাইজার”। ফলে শিক্ষকদের গবেষণা-ভাতা বৃদ্ধি হয়েছে তিন গুণ, তাঁদের জন্য চালু হয়েছে বিভিন্ন অনুদান, পাশ হয়েছে পোষ্ট-ডক্টোরাল গবেষনার জন্য সবেতনে এক বছরের ছুটি, চালু হয়েছে ডিন’স এ্যয়ার্ড, প্রত্যেক শিক্ষা ও প্রশাসনিক ভবনে ছাত্রী-শিক্ষিকা-মহিলা অফিসারদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে পৃথক পৃথক ওয়াশরুম এবং আলাদা নামাজের স্থান, নিশ্চিৎ করা হয়েছে ’এ্যক্সেস টু ইনফরমেশন’, গবেষণার মান বাড়ানোর জন্য গঠিত হচ্ছে ’ইথিক্যাল বোর্ড’, সর্বোচ্চ জোর দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মৌলিক গবেষণার উপর।  
বাংলাদেশে প্রথমবারের মত এ বিশ্ববিদ্যালয়েই চালু হয়েছে তাৎক্ষনিক সার্টিফিকেট যাচাই সিস্টেম, করোনা-মহামারির প্রথম লগ্নেই মোবাইল ব্যাঙ্কিং এবং অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য মাথাপিছু দেয়া হয়েছে ৩০০০/= টাকা করে অনুদান, অন-লাইন ক্লশে সহজে অংশগ্রহন নিশ্চিৎ করতে সাড়ে ২২ শ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে প্রতি মাসে ১৫ জিবি জিপি নেট প্রদান করা হয়েছে, এবং লজিস্টিক সাপোর্ট সামগ্রীর জন্য প্রায় ৫০০ শিক্ষকের প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে ১০,০০০/= টাকার অনুদান, তরুণ শিক্ষকদেরকে ল্যাপটপ কেনার জন্য সহজ শর্তে সুদবিহীন ঋণ দেয়া হয়েছে ৫০,০০০/= টাকা করে, ইত্যাদি….।

চহিদা মোতাবেক প্রতিটি বিভাগে ও দপ্তরে অতিরিক্ত উল্লেখযোগ্য-সংখ্যক ফার্নিচার ও কম্পিউটার-সামগ্রি সরবরাহ করা হয়েছে। সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের সন্তনাদির ভর্তির জন্য এ দেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথমবারের মত কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাংলা ও ইংরেজি জার্নাল প্রথমবারের মত হালনগাদ করা হয়েছে।   

দীর্ঘ ১৩ বছর পর শাবি-র ৩য় সমাবর্তন ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ভিসি-ই পরিষ্কার করেছেন ১৩ বছরের সমাবর্তন-জট। শুনেছি, ২০২১ সালের প্রথমার্ধে নাকি চতুর্থ সমাবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। আবার, এ-ও শুনেছি, বর্তমান ভিসি মহোদয়ের মেয়াদ নাকি আর মাত্র ২/৩ মাস বাকি আছে। আমাদের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রতি আমার সবিনয় অনুরোধ: শাবি-র বর্তমান মাননীয় ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে তাঁর স্বপদে মিনিমাম আরও পূর্ণ এক টার্ম বহাল রেখে আশু সমাবর্তনটিকে যেন সফল ও সার্থক হতে দেয়া হয়। আর, আজকের এই বিশ্ব-মহামারির দিনেও শাবি-তে গবেষণা ও হাজার হাজার কোটি টাকার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের যে মহা কর্মযজ্ঞ চলছে, তাতে কোন রকমের কোন ফাটল না ধরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে যেন এর পূর্ণাঙ্গতার দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ নির্বিঘ্ন করা হয়।

অধিকন্তু, আমি তো রীতিমত ভীত! আমাদের শিক্ষামন্ত্রণালয় কি সত্যিই কোন বিপদে আছে? সম্প্রতি এক পত্রিকায় দেখলাম, দেশের ৭ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভিসি নেই, আর, কোন কোনটাতে সর্বোচ্চ তিনটি পদ-ই খালি! কিছুই যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলছে কি করে? উপযুক্ত মানুষের/ব্যক্তিত্বের/পণ্ডিতের কি এতই অভাব পড়ল বাংলাদেশে? আগে প্রায়ই শুনা যেত, অমুক উপজিলায় এতটা শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য, এতটা ডাক্তারের পদ খালি, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এতটা প্রধান শিক্ষকের আসন ফাঁকা, বিশেষ করে, এতটা সরকারি স্কুল ও কলেজে শিক্ষকদের এত এত পদে শিক্ষক নেই, এতটা অধ্যক্ষের পদ হাহাকার করছে, একবার এক সরকারি স্কুলে এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, শুনে অবাক হলাম, ২৭ টি পদের মধ্যে শিক্ষক আছেন ০৯ জন (মা-শা-আল্লাহ, ঢের বেশি তো বটেই)………!

অথচ, দেশের লক্ষ লক্ষ গ্রাজুয়েট রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে চাকরির জন্য, অনেকে হচ্ছে বিপথগামি, ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরছে কত গ্রাজুয়েট, কেন হবে এরকম? এরা তো আমাদের সন্তান। বিশ্ববিদ্যলয়ের উৎপাদিত এতসব গ্রাজুয়েটের সবাই যদি আন্কুয়ালিফাইড্ই হয়, তাহলে তো উচিৎ হবে, আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই উঠিয়ে দেয়া। আর সবাই তখন এক সাথে প্রতিবন্ধি হয়ে বসে থাকতে পারি। স্বয়ং আমি ১৪টি দেশের শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছি। নির্দিধায় বলতে পারি, আমাদের ছেলেমেয়েরা ওদের তুলনায় অনেক অনেক ব্রাইট্। সাক্ষাৎকারে যদি আটকাবারই ইচ্ছা আগে থেকেই থাকে, তবে একজন প্রার্থীও সাক্ষৎকার বোর্ডের একজন সম্মানিত ও বিজ্ঞ সদস্যকেও আটকাতে পারে। প্রমান প্রতিষ্ঠিত আছে, হায়রে, বিশেষ করে ৮ম, ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যপুস্তকে যে পরিমান ভুল আছে, অনেক সময় আমাদের শিক্ষর্থীরাও এগুলো ধরে ফেলে! এগুলো তো আমরা বিশেষজ্ঞ-কমিটিই করেছি!

যাক, শেষ কথা, শাবি-র বর্তমান ভিসি মহোদয়ের কাছে আমি আজও অনেকটাই অপরিচিত। উনার বাড়ি কুমিল্লা; আর, আমার বাড়ি সিলেট। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি যে আমাদের সকলের গৌরব। উনাকে দ্বিতীয় টার্মে তাঁর স্বপদে পূনঃনিয়োগ দিয়ে অন্তত আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি-নিয়োগের হেডেকটা আমাদের শিক্ষামন্ত্রণালয় যেন মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে।


লেখকঃ  প্রফেসর ড. মোঃ আতী উল্লাহ (পিএইচ.ডি.-ইংলিশ), বর্তমানে: প্রিন্সিপাল, ক্যামব্রিজ গ্রামার স্কুল এণ্ড কলেজ, সিলেট (এবং প্রতিষ্ঠাকালীন ও সাবেক ২৪ বছরের বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট )।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ জিএসি-৩০

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন