আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং

অভিনন্দন নাদেল ভাই

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-১২-২৯ ২১:৫৬:৫৫


|| বিশ্বজিত রায় ||


শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদ্যঘোষিত সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি আদর্শ ও রাজনীতিনিষ্ঠ মহৎ গুণে জাতীয় রাজনীতিতে লিখিয়েছেন নিজের নাম। স্থানীয় রাজনীতির সীমানা অতিক্রমকারী বিনম্র নাদেল পরিচ্ছন্ন রাজনীতির প্রতীকি রূপ হয়ে উঠেছেন বলেই আজ তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী উপমহাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হতে পেরেছেন। কিশোর বয়সে ছাত্র রাজনীতিতে সওয়ার হওয়া এই মার্জিত মানুষটি চলন-বলনে নিজেকে এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছেন যা আদর্শ ও নীতিবিরোধি বর্তমান রাজনীতির সম্পূর্ণ উল্টো।

যেখানে পুচকে পাতি নেতা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা কর্তৃক রাজনীতির নীতিটা আজ পদদলিত সেখানে নাদেল ভাই সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম বিমোহিত ব্যক্তি। তাঁর এই সফল পথচলা একজন বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষ হিসেবে আমাকে মুগ্ধ করেছে বারবার। সেই মুগ্ধতার জায়গা থেকেই হয়তো তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে। সে জন্য অভিনন্দন নাদেল ভাই আপনাকে। সিলেটের কর্মজীবনে এক সময় আপনার সংস্পর্শে থাকতে পেরেছি বলে আমি ধন্য।

সত্যিই একজন ভালো ভদ্র ও বিনয়ী স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বেছে নিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রাজনীতির প্রকৃত অর্থ বহন করার সামর্থ রাখেন এমন মানুষটিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়িত করার জন্য দলীয় প্রধান বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। বহু ত্যাগী ও দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতৃত্বের জন্ম দেওয়া বাংলাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন সেই ধারাবাহিকতায় সিলেটের সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্ভেজাল নিবেদিত রাজনীতিক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই দিয়ে দলীয় হাইকমান্ড যে চমক দেখিয়েছেন তা সত্যিই চমকপ্রদ যোগ্যতর সিদ্ধান্ত।

আমাদের দেশে রাজনীতি যখন নীতিহীনতার অতলে নিমজ্জিত তখন নিখাদ নির্লোভ নাদেল ভাইয়ের মতো সজ্জন সচ্চরিত মানুষেরা রাজনীতিতে হতে পারেন আশাস্পদ আলোর দিশারী। রাজনীতি গ্রহণযোগ্যতার নিভু নিভু প্রদীপে, তিনি যোগ্যতার বলে জ্বলে ওঠা আলো ঝলমলে এক পরিপূর্ণ পিদিম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও চেতনা লালনকারী এই আদর্শিক নেতা তাঁর নীতিবান্ধব নেতৃত্ব দিয়ে জয় করতে পারবেন রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মানুষের ভরসাশূন্য হৃদয়। এটা আমার বিশ্বাস, ধ্যান ও ধারণা। রাজনীতির ছদ্মবেশে ভোগ-বিলাসিতা ভ্রান্ত চাওয়া-পাওয়ার গন্ডি ভেদ করা রাজনীতিপ্রিয় নাদেল শুধু তৃণমূলের নেতাকর্মী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গিকেই জয় করেননি, তিনি জয় করেছেন অপরিপক্ব আনকোরা এই অধমের হৃদয়ও।

একদা এই মহনীয় উদারচেতা মানুষটির স্নেহস্পর্শে থাকার সুবাদে জানতে পারি তার মহৎ মনের সীমারেখা কতটা মানুষপ্রিয়। বেশকিছু দিন তাঁর ব্যক্তি মালিকানাধীন ছাপাখানা ও পত্রিকায় কাজ করেও বুঝতে পারিনি তিনি যে মালিক প্রতিষ্ঠান কর্তা। তার মধ্যে মালিকত্ব অহংবোধের যৎসামান্য অহং উপলব্ধি ছিল না বলেই এমন অনুভূতি আমার। কতটা অহংশূন্য ভালো মানুষ হলে একজন ব্যক্তি কাজে ভুল করলেও তার অধীনস্ত মানুষটির কর্মপিছু দাঁড়িয়ে ধমকহীন স্নেহপূর্ণ কোমল সুরে বলতে পারেন ‘তুই তো অভিজ্ঞ, লিড নিউজের শিরোনামটা একটু বোল্ড করে দিলে ভালো হয় না।’ সেই আমি রাত ৯টায় বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটারের কাজ ফেলে চলে যাওয়ার পরও শহরের দুর্দান্ত ক্ষমতাশালী এই ব্যক্তিটি বলতে পারলেন, ‘আনা ভাই, তাকে ডেকে এনে চলতি মাসের বেতনটা দিয়ে দিয়েন।’ সদ্য সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়া শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নাদেলের সাথে কাজ করতে গিয়ে আমার এই অভিজ্ঞতা আজও আমাকে সম্মান-শ্রদ্ধায় অবনত করে। সত্যিই শফিউল আলম নাদেল সুযোগ্য রাজনৈতিক নেতা। তিনি কতটা ভালো মানুষ, সেটা আরও ভালো বলতে পারবেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধাসহ সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবিশেষ থেকে শুরু করে রাজনীতি বিরোধি নেতাকর্মী ও পরিচিতিজন।

এবার সকলের প্রিয় রাজনীতিক নাদেল ভাইয়ের জন্ম ও কর্মজীবন নিয়ে ভাবতে হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদ্য পদায়িত সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলাস্থ রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কৌলা (বড় বাড়ি) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সমাজসেবী পিতা মরহুম শামসুল আলম চৌধুরী ও মাতা মাসুদা আক্তার চৌধুরীর চার সন্তানের একজন তিনি। এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণকারী শফিউল নাদেলের বর্তমান নিবাস সিলেটের আম্বরখানাস্থ শুভেচ্ছা-৪৭ নম্বর বাসাটি। তিন সন্তানের এই জনক ১৯৮৭ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৯ সালে সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৯২ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন রাজনীতিতে দীপ্তিপ্রখর এই মানুষটি।

স্কুলে অধ্যয়নরত কিশোর বয়স থেকেই তার রাজনীতিতে হাতেকড়ি। ১৯৮৬ সালে সিলেট শহর স্কুলে থাকাবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের স্কুল শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন নাদেল। ১৯৮৮ সালে সিলেট এমসি কলেজ ও ১৯৮৯-৯৩ সাল নাগাদ সিলেট জেলা শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং পরবর্তীতে ১৯৯৩-৯৭ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৯৭-২০০১ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের মূল কমিটিতে স্থান করে নেন নব্বই দশকের তুখোড় এই ছাত্রনেতা। ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ২০১২ সাল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ার আগ পর্যন্ত একই শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকেন। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

রাজনীতি নির্মল এই মানুষটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শেখ হাসিনার স্বপ্ন ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের ব্রত নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান। সেই জায়গা থেকেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। যে স্বপ্ন বুনন করে এতদিন তিনি রাজনীতিতে নিজের সুচ্ছ সুন্দর ভাবমূর্তির জানান দিয়ে গেছেন আজ তাতে অনেকটা সফল হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার মধ্য দিয়ে শফিউল আলম নাদেলের স্বপ্নটা অঙ্কুরিত হয়েছে। আশা করব, বঙ্গবন্ধু তনয়ার আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটুকু ধরে রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অর্থাৎ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করবেন। অবশেষে প্রিয় নাদেল ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনাসহ স্বচ্ছ সফল পথচলা প্রত্যাশা করছি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন