আজ বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০ ইং

শতাব্দীর উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা ছাহেব ক্বিবলাহ ফুলতলী

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০১-০৬ ১২:১১:৫৩

আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার :: যুগে যুগে কিছু মানুষের জন্মই হয় সমাজকে আলোকিত করতে। পথ হারা বনি আদমকে সত্যের পথ দেখাতে। নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমন এর মাধ্যমে এ দুনিয়ার জমিনে নবী রাসূলগণের আগমণের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। নবী রাসুলগণের আগমনের ধারা বন্ধ হওয়ার পর অসংখ্য অলি-আওলিয়া, গাউ্‌স, কুতুব এই পৃথিবীর জমিনে তসরিফ এনেছেন এবং আনবেন। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে সিলেটের জকিগঞ্জ গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন শতাব্দীর এক মহাপুরুষ শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (রহ)। যিনি ঘুনে ধরা সমাজের পরিবর্তনের জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন উচ্চ পর্যায়ের আশেকে রাসুল।তিনি সারাজীবন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শান মানের কথা বলে গেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শান মান বলতে গিয়ে দুশমনে রাসুলদের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

১৯৮০ সালের ৫ই মার্চ সৈয়দপুরের মাঠিতে জড়িয়েছেন নিজের শরীরের রক্ত। অসংখ্য পথ হারা বনি আদমকে দিয়েছেন পথের দিশা। ২০০৮ সালে তিনি চলে গেছেন এই পৃথিবী ছেড়ে। কিন্তু তিনি আজও আছেন লক্ষ লক্ষ মানুষের শ্রদ্ধার আসনে, ভালোবাসার জায়গায়।তঁার অসংখ্য দ্বীনের খেদমতের কারণে এই আসন অলংকিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি ছিলেন অসংখ্য মানুষের রুহানী রাহবার।
বিশাল কর্মময় জীবনের অধিকারী আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) ইসলাম ও মুসলমানের স্বার্থে সময়ে সময়ে গড়ে তুলেছেন জাগরণী আন্দোলন, ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ দেখলেই ফেটে পড়েছেন বিক্ষোভে, শাসক-শোষকের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছেন সময়োপযোগী সংগ্রাম। আল্লামা ফুলতলী (র) অসংখ্য খেদমত করে গেছেন এর মধ্যে এখানে কিছু তুলে ধরা হলঃ

ইলমে হাদীসের খিদমতঃ
কর্মজীবনে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) ১৯৪৬ সালে বদরপুর আলিয়া মাদরাসায় যোগদান করে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। এরপর গাছবাড়ি জামেউল উলূম আলিয়া মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করে ছয় বছর সুনামের সাথে পাঠদান করেন। তিনি এ সময় ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপাল হিসেবে গুরু দায়িত্ব আনজাম দেন। এরপর সুদীর্ঘকাল সৎপুর আলিয়া মাদরাসা ও ইছামতি আলিয়া মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে ইলমে হাদীসের খিদমত আনজাম দেন। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানে বুখারী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইতকান, নূরুল আনোয়ার, আকাইদ, হিদায়া, জালালাইন প্রভৃতি উঁচু পর্যায়ের কিতাবাদি দক্ষতার সাথে পাঠদান করেন। ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত সপ্তাহে দু’দিন ফুলতলী আলিয়া মাদরাসায় কামিল জামাতে বুখারী শরীফের দারস দিতেন। তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে পয়গামে ইলাহী ও তা’লীমে নববীর অমিয় সুধা পানে আলোকপ্রাপ্ত হয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী।

হাদীস শরীফের খেদমতঃ
হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) দীর্ঘ প্রায় পৌনে একশতাব্দী ইলমে হাদীসের খিদমত করেছেন। বদরপুর আলিয়া মাদরাসা থেকে শুরু হওয়া খিদমতের ধারা ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তাঁর নিকট হাদীসের দারস গ্রহণকারী কতিপয়কে ২৭ এপ্রিল ২০০৬ তারিখে একটি সুন্দর মাহফিলের মাধ্যমে হাদীস শরীফের সনদ প্রদান করা হয়। শুধু নির্বাচিত আবেদনকারীগণই সনদ লাভ করেন। এ উপলক্ষে হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর নিকট থেকে হাদীস শরীফের সনদ গ্রহণকারী শাগরিদবৃন্দের পক্ষ থেকে ‘রাহী মদীনা’ নামে একটি স্মারকও প্রকাশিত হয়। স্মারকটিতে সনদ গ্রহণকারীদের তালিকাতে ৮১৬ জনের নাম, ঠিকানা ও কামিল পাশের সন ছাপা হয়েছে। অবশ্য এর বাইরেও আল্লামা ফুলতলী (র.)-এর বহু সংখ্যক শাগরিদ রয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই তাঁর পূর্বে ইন্তিকাল করেছেন। অনেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে সক্ষম হননি। তাছাড়া বিদেশে অবস্থানসহ নানা কারণে অনেক শাগরিদ এখানে তালিকাভুক্তও হতে পারেননি।

ইলমে কিরাতের খিদমতঃ
হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ ভারতের উত্তর প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী রামপুর আলিয়া মাদরাসা থেকে তাফসীর, হাদীস ও ফিকহ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করে যখন ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ (বর্তমানে জেলা)-এর বদরপুর আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতায় নিয়োজিত, তখন তাঁর মুরশিদ হযরত মাওলানা আবূ ইউসূফ শাহ মোহাম্মদ ইয়াকুব বদরপুরী (র.) তাঁকে বিশুদ্ধ কিরাত শিক্ষার ব্যাপারে বিশেষ তাকীদ প্রদান করেন। বদরপুরী (র.)-এর তাকীদের ব্যাপারে হযরত ফুলতলী (র.)-এর নিজের ভাষ্য নিম্নরূপ :
“সে সময় উলামায়ে কিরামের ধারণা ছিল যে, ‘আমার কিরাত বিশুদ্ধ।’ কিন্তু বদরপুরী ছাহেব কিবলাহ আমাকে সময় সময় বলতেন, ‘তোমার কিরাত কিছুটা অশুদ্ধ।’ একদিন বললেন, ‘তোমার কিরাত বিশুদ্ধ করে নিলে ভবিষ্যতে ভালো হতো।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কার নিকট থেকে কুরআন শরীফ গিয়ে শুদ্ধ করব?’ উত্তরে বললেন, ভোগা নিবাসী মাওলানা আব্দুর রউফ করমপুরী ছাহেবের নিকট গিয়ে কুরআন শরীফ শুদ্ধ করে নাও।”
মুরশিদের নির্দেশ পেয়ে তিনি প্রথমে বিশ্ববিখ্যাত কারী হযরত ইরকসূস মিসরী (র.)-এর অন্যতম শাগরিদ হযরত মাওলানা হাফিয আব্দুর রউফ করমপুরী (র.) ও পরবর্তীতে মক্কা শরীফের ইমামগণের পরীক্ষক, মিসরীয় বংশোদ্ভূত, রঈসুল কুররা হযরত আহমদ হিজাযী (র.)-এর নিকট কিরাতের শিক্ষা গ্রহণ করেন।
আল-কুরআনুল কারীম তারতীলের সাথে (শুদ্ধ পঠনপ্রণালী অনুযায়ী) তিলাওয়াতের শিক্ষা বিস্তার হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর অন্যতম প্রধান খিদমত। স্বপ্নে রাসূলে পাক (সা.)-এর ইঙ্গিতেই এ খিদমত শুরু হয়। ঘটনাটি নিম্নরূপ :
হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) মক্কা শরীফ হতে ফিরে পুনরায় যথারীতি বদরপুর আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষাদান শুরু করেন। একদিন হযরত ছাহেব কিবলাহ ক্লাসে ছাত্রদের দারস দেয়ার সময় সেখানে হযরত আবদুন নূর গড়কাপনী (র.) তাশরীফ নিলেন। সমকালীন খ্যাতনামা আলিম ও বুযুর্গ ছিলেন তিনি। ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ তাঁকে সমাদরে পাশে বসতে অনুরোধ করে পাঠদানে ব্যস্ত হলেন। ক্লাসের সময় শেষ হলে ছাহেব কিবলাহ তাঁর কুশলাদি ও আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, সর্বসাধারণ তো দূরের কথা এতদঞ্চলের বেশ কিছু সংখ্যক আলিমেরও কিরাত শুদ্ধ নয়। তাই ছাহেব কিবলাহ দারসে কিরাতের জন্য অন্তত সপ্তাহে ঘন্টাখানেক সময় যেন দেন আমাদের। ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ জবাবে বললেন, আমার হাতে সময় একেবারে কম, বিশেষ করে ক্লাসে ছাত্রদের পাঠদানের আগে নিজে ভালোভাবে তা দেখে নিতে হয়, তাই সময় দেয়া মোটেই সম্ভব নয়। একথার পর আবদুন নূর ছাহেব চলে গেলেন।
পরদিন ঠিক একইভাবে উপস্থিত হয়ে এ কথারই পুনরাবৃত্তি করলে ছাহেব কিবলাহ আবারও অপারগতা প্রকাশ করলেন। তখন হযরত আবদুন নূর (র.) বললেন, আমি নিজে থেকে আপনার নিকট আসিনি। বড় জায়গা থেকে নির্দেশ পেয়েই তবে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ তখন স্বীয় মুরশিদ হযরত বদরপুরী (র.)-এর নির্দেশ কিনা জানতে চাইলে হযরত আবদুন নূর (র.) বললেন, না আরো বড় জায়গা থেকে নির্দেশ পেয়েছি। ছাহেব কিবলাহর অনুরোধে তিনি বর্ণনা করলেন, ‘স্বপ্নে হুযূর (সা.) কে দেখা গেল। আরয করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, কুরআন শরীফের তিলাওয়াত শুনতে চাই। রাসূল (সা.) তিলাওয়াত করে শুনালেন। আরয করলাম, এই কিরাত কিভাবে শিখব? তখন নবী করীম (সা.) ডান দিকে ইশারা করলেন। সেদিকে চেয়ে দেখা গেল, সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি আপনি।’ একথা শুনার সাথে সাথে হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ কেঁদে ফেললেন এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘ঠিক আছে, আমি সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার ১২টার পরে নিকটবর্তী হযরত আদম খাকী (র.) (৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম)-এর মাযার সংলগ্ন মসজিদে কিরাতের দারস দেয়ার ওয়াদা দিলাম।’ এভাবেই ছাহেব কিবলাহর ইলমে কিরাতের খিদমতের সূত্রপাত। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে পায়ে হেটে, ঘোড়ায় চড়ে, দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে অবৈতনিকভাবে কিরাতের দারস দিয়েছেন।
১৯৫০ ইংরেজি সনে ছাহেব কিবলাহ নিজ বাড়িতে ইলমে কিরাতের দারস প্রথম চালু করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষকদের সুবিধার্থে ছুটির অবসরকালীন রামাদান মাসকে কিরাত শিক্ষার জন্য বেছে নেন তিনি। তাছাড়া রামাদান মাস হলো নুযূলে কুরআনের মাস।
প্রতি বছর রামাদানে ছাহেব কিবলাহ নিজ বাড়িতে শিক্ষার্থীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা নিজ খরচে বহন করতে থাকেন। দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তিনি সবাইকে তা’লীম দিয়ে এবং সমগ্র কুরআন শরীফ নিজে শুনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে তবেই সনদ প্রদান করতেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অন্যান্য স্থানে শাখাকেন্দ্র অনুমোদন ও একটি বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই ৭ সদস্য বিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সদস্যদের অনুরোধক্রমে ছাহেব কিবলাহ’র ওয়ালিদ মুহতারাম হযরত মাওলানা মুফতী আবদুল মজীদ চৌধুরী (র.)-এর নামানুসারে এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় ‘দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট’। ছাহেব কিবলাহ তাঁর ভূ-সম্পত্তির বিশাল অংশ (প্রায় ৩৩ একর) এই ট্রাস্টের নামে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। বর্তমানে এই বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় দেড় সহস্রাধিক শাখা কেন্দ্র দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে রয়েছে।

রচনাবলীঃ
আত তানভীর আলাত তাফসীর
মুন্তাখাবুস সিয়র
আনওয়ারুছ ছালিকীন
আল খুতবাতুল ইয়াকুবিয়া
নালায়ে কলন্দর
শাজরায়ে তাইয়্যিবাহ
আল কাউলুছ ছাদীদ। [৭][১৩]

তার লেখা অনেক উর্দু ও আরবি গ্রন্থ ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন মাদ্রাসার পাঠ্যসূচিতে রয়েছে।] এ ছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের পাঠ্যসূচিতেও তার অনেক গ্রন্থ রয়েছে।
সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানঃ

দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট
বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ
বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া
দারুল হাদীস লতিফিয়া, ইউ. কে
লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি
দারুল হাদীস লতিফিয়াহ
লতিফিয়া এতীমখানা
হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদ্রাসা।
বাংলাদেশ আন্জুমানে মাদারিছে আরাবিয়া
লতিফিয়া কারী সোসাইটি
ইয়াকুবিয়া হিফযুল কুরআন বোর্ড সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লংমার্চঃ আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী এদেশের আলিম উলামাদের ছিল দীর্ঘদিনের। ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০০৬ ইং মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। সেদিন পাঁচ শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) এর আহবানে পূণ্যভুমি সিলেট থেকে সকাল ১০ ঘটিকায় রাজধানী অভিমুখে লংমার্চের কাফেলা রওয়ানা হয়। সাথে হাজার হাজার মানুষ। লংমার্চ শেষ হলো জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এসে, ওভার ব্রিজের তলদেশে। পশ্চিমে পল্টন মোড়, মাঝখানে মঞ্চ, সামনে যতদূর চোখ যায় দৈনিক বাংলার মোড় ছাড়িয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত দু’পাশ ছাপিয়ে লোকে লোকারণ্য। অতি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ছাহেব কিবলাহ (রহ.) বললেন, আমি অনেক কষ্ট করে সুদূর সিলেট থেকে এসেছি একটি কথা বলার জন্যে। আমি প্রধানমন্ত্রীর (খালেদা জিয়া) কাছে একটি দাবি নিয়ে এসেছি। কোন রাজনৈতিক দাবি নয়। সারা দেশের মাদরাসা শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা, উন্নয়ন ও পরিচর্যার জন্য ঢাকায় একটি ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় চাই। এ দাবি পূরণ করবেন কিনা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি জানতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর জবাবের অপেক্ষায় থাকব।’

আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (রহ) এর আন্দোলনের ফসল হচ্ছে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়।

শামছুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (রহ) ভারতীয় উপমহাদেশের এক আলোকিত নাম। এক বিখ্যাত আল্লাহর ওলী। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর উজ্জ্বল নক্ষত্র। আসছে আগামী ১৫ই জানুয়ারী ইন্তেকাল বার্ষিকী। আল্লাহপাক তঁার ওলী দরজা বেশী বেশী করে বুলন্দ করুন। আমাদের রুহানী ফয়েদ্ব নসীব করুন।
 
লেখক: কলামিষ্ট, সিলেট।

@

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন