আজ শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ ইং

দোয়ারাবাজারে তিনযুগেও পাকা হয়নি মৌলারপাড় রাস্তা

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-০৯-১২ ১৮:৫৫:৫৩

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে দীর্গ তিনযুগেও পাকা হয়নি মৌলারপাড় কাঁচা রাস্তাটি।

উপজেলার ১ নং বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মৌলারপাড়, চৌধুরীপাড়া ও নতুন বাঁশতলা গ্রামের ৫ সহস্ত্রাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা ওই কাঁচা রাস্তাটি। ওই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল দূরের কথা, হেঁটে চলাই বিপজ্জনক। একটুখানি বৃষ্টি হলেই অবস্থা নাজুক হয়। এছাড়া গ্রীস্ম-বর্ষা ছাড়াও বছরের অধিকাংশ সময় ওই রাস্তায় হাটু সমান কাদা লেগে থাকে। ফলে ওই তিন গ্রামের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ বয়স্কদের চরম ঝুঁকিতে রাস্তা অতিক্রম করতে হয়।

এ ছাড়া ওই রাস্তায় প্রায়ই কোমর সমান কাদাজল লেগে থাকায় হামাগুড়ি খেয়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে যোগ দিতে না পারায় পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। আহতের ঘটনাও প্রায়ই ঘটে থাকে। দীর্ঘ তিনযুগ ধরে ওই রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসলেও তা আজো বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিবার নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই এমপি মহোদয়সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শুধু প্রস্তুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেন। জনগনের দূর্ভোগ লাঘবে কোনো প্রকার উদ্যোগ নেননি তারা। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিটি আজ গণদাবিতে রূপ নিয়েছে।

মৌলারপাড় গ্রামের আব্দুস সামাদ কুডু মিয়া ক্ষোভের সাথে বলেন, সরকার বহিরাগত রোহিঙ্গাদের জীবনমানে অনেক কিছুই করে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা এদেশের প্রকৃত নাগরিক হয়েও সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। পূর্ণাঙ্গ একটি রাস্তার অভাবে আজ আমরা জীবন জীবিকায় অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলেও শুধুমাত্র আশ্বাস ছাড়া কোনো ফল হয়নি।

এলাকার সমাজ সেবক ইন্তাজ মিয়া ও আক্কাস আলী মড়ল বলেন, দীর্ঘদিনের দাবিকৃত ওই রাস্তাটি পাকাকরণ হলে শুধু চলাচলই সহজ হবেনা বরং এলাকার উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য বাজারজাত করতে সহজসাধ্য হবে।

স্থানীয় চৌধুরীপাড়া শহীদস্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, মৌলারপাড় কাঁচা রাস্তার বেহাল দশায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার তুলনামুলক কম। বইখাতা কাঁধে-পিঠে ঝুঁলিয়ে কাদামাটি মাড়িয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যারা ক্লাসে আসে, তারা স্বভাবত শারীরিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ক্লাসে পাঠদানকালে তারা অমনযোগী হয়ে পড়ে। তাই রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ প্রয়োজন। সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ভূইয়া একই মত পোষণ করেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জসিম মাস্টার বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে আমার ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে রাস্তা পাকাকরণের এখতিয়ার আমার নেই। অবশ্য কিছুদিন পূর্বে আমি মৌলারপাড় রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করেছি। তবে  এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিকৃত ওই কাঁচা রাস্তাটির পাকাকরণ বাস্তবায়ন করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের প্রতি আমার জোরালো ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯/ টিআই/ এসএইচ
 

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন