আজ শনিবার, ০৬ জুন ২০২০ ইং

দিরাইয়ে বাউল রনেশ ঠাকুরের গানের ঘরে আগুন, শিল্পী আশিকের প্রতিবাদ

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-০৫-২১ ১১:২৮:৩৫

দিরাই প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের অন্যতম শীষ্য উপজেলার উজানধল গ্রামের বাউল রণেশ ঠাকুরের গানের ঘর। ঘরে থাকা দোল, ছইট্টা, দোতারা, হারমুনিয়ামসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি এবং সঙ্গীতের পান্ডুলিপিসহ পুড়ে গেছে অনেক মূল্যবান জিনিস।

এদিকে উজানধল গ্রামের রমনী মোহন চক্রবর্তী খ্যাতনামা কবিয়াল ছেলে বাউল রণেশ ঠাকুরের গানের ঘর পুড়িয়ে দেবার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে তা ব্যাপক হারে প্রচার হতে থাকে তাতে অনেকে প্রতিবাদ জানায়।

তেমনি শিল্পী আশিক তার ফেসবুক পেইজে এঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যা দেশের খ্যাতিমান শিল্পী আসিফ সহ দেড় হাজার আইডি থেকে শেয়ার দেওয়া হয়েছে।

শিল্পী আশিকের পোস্টটি হুবুহুবু তুলে ধরা হল:

শেয়ারের মাধ্যমে সবাই প্রতিবাদ জানাই।

বাউল রনেশ ঠাকুর একজন বাউল,একজন সাদা মনের মানুষ,উজান ধলের বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্ম,কিন্তু সাদা সিধে সহজ সরল মনের মানুষের সাথে এই রকম নেক্কার জনক ঘটনা ঘটতে পারে কিভাবে আমার কল্পনায় আসেনা। আজকে শাহ আব্দুল করিমের শাহ আব্দুল করিম হয়ে উঠার পেছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তারা হচ্ছে দুই ভাই,রুহী ঠাকুর এবং রনেশ ঠাকুর। রনেশ ঠাকুর নিজেও একজন বাউল হয়েও তার নিজের গান প্রচার না করে উনার ওস্তাদ শাহ আব্দুল করিমের গান বিভিন্ন জায়গায় গেয়ে প্রচার করেছেন। নিজের দিকে বিন্দুমাত্র খেয়াল করেননি তিনি। এই মানুষটা যেভাবে শাহ আব্দুল করিমের গান গায়,যে দরদ দিয়ে গায়,আমি পুরো বাংলাদেশ চ্যলেঞ্জ করে বলতে পারি শাহ আব্দুল করিমের গান এতো দরদ আর কোন শিল্পী গাইতে পারবেনা, আমি নিজেও তার গানের খুব ভক্ত।

গত রবিবার দিবাগত রাত ১.৩০ মিনিটে কেবা কারা তার ঘরে আগুন ধরিয়ে ঘর জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়। এই রকম সাদাসিধে মানুষ,বাউল রনেশ ঠাকুরেরও যে শত্রু থাকতে পারে আমার বিশ্বাস হয় না। আমি এই নেক্কার জনক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং এই অপরাধের সাথে যারাই জড়িতো আছে তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাউল রনেশ ঠাকুর শাহ আব্দুল করিমের গানের একটা জিবন্ত ডায়েরী।
এই ডায়েরীটাকে মুছে দেয়ার জন্যই মনে হয় এই নেক্কার জনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এই ঘটনার সুষ্ট বিচার না হলে সারা বাংলাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তাই দিরাই উপজেলা প্রশাসন,সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি এই ঘটনার পুনরাবৃত্তিগমগমনা দ্বিতীয় বার যেন না হয় এর জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসেন অতি দ্রুত।

জয় হোক বিশ্বমানবতার
জয় হোক মানবতার গান গাওয়া
এদেশের সহজ সরল বাউলদের।

আল্লাহ হাফেজ-
#পাগলা আশিক।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/২১ মে ২০২০/এইচপি/ডিজেএস

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন