আজ সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০ ইং

দোয়ারাবাজার টেকনিক্যাল কলেজ: নির্মাণ কাজ শুরুর আগেই মেয়াদ শেষ!

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০২০-১০-১৯ ১৮:০৬:০৮

তাজুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) :: থমকে আছে বহুল প্রত্যাশিত সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন কাম প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ কাজ। প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণ কাজের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন উপজেলার সচেতন মহল।   

জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের একান্ত প্রচেষ্টায় স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পায় দোয়ারাবাজার উপজেলাবাসী। উল্লেখ্য, দীর্ঘকাল থেকে এখানকার শিক্ষার্থীরা হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ণরত ছিল। স্বপ্ন থাকা স্বত্ত্বেও দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সামর্থ্ না থাকায় শুরুতেই স্বপ্ন ভেস্তে যাচ্ছে ভূক্তভোগি অনেক শিক্ষার্থীর।

২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সাইডিং সংলগ্ন  সুরমা নদীবিধৌত হিজলতলায় দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ তলা একাডেমিক ভবন কাম প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। কাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের নানা টালবাহানায় দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে। কাজের মেয়াদ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরুই হয়নি এখনও।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার নিজে না এসে তার প্রতিনিধির মাধ্যমে দায়সারাভাবে কাজ করানোর ফলে শুরুতেই কাজের রোল ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কাজ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করলেই চাঁদাবাজি মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অফিস কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকলেও সরেজমিনে কাজের দেখভাল করতে কাউকে তেমন দেখা যায় না বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

দোয়ারাবাজার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন জুনেদ  জানান, আগ্রহ থাকা সত্বেও প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধুমাত্র সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরাই জেলা শহরের বাইরে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী এনামুল কবির মুন্না জানান, নির্মাণকাজে কালক্ষেপনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের গাফিলতি রয়েছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

স্থানীয় টেংরাটিলার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম বীরপ্রতীক জানান, দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণকাজের কোনো অগ্রগতি না হওয়াতে আগ্রহ থাকা স্বত্ত্বেও কারিগরি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষার্থীরা। তাদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানাই।

ঠিকাদারের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান জানান, করোনা, বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। নতুন করে কাজের সময়সীমা বাড়ানো হবে।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা জানান, জমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত একটা জটিলতা ছিলো। ইতিপূর্বে তা নিস্পত্তি হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।

কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল হাকিম জানান, শিগগির কাজ শুরু হবে। দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সম্মুখভাগে সামান্য জমি অধিগ্রহন না করায় আইনি জটিলতা ছিল, এছাড়াও করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এতদিন কাজ শুর করা যায়নি।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ১৯ অক্টোবর ২০২০/জুনেদ


শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন