আজ শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ইং

কবিতা || বাকের ভাইয়ের স্রষ্টা সমীপে

সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম, ২০১৯-০৯-২৬ ১৯:০৮:৪৩

বাকের ভাইয়ের স্রষ্টা হুমায়ুন আহমেদ

মাতুব্বর তোফায়েল হোসেন ::

আপনি সময়টাকে ধরতে পেরেছিলেন ভালো।
কোথাও কেউ নেই, এত গভীর থেকে বলেছিলেন,
ভেবে আমরা চমকে উঠি আজো, মুনাকে বাঁচাতে আসবে না কেউ;
তেমন কেউ সারা বাংলাদেশেও নেই, বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হয়ে গেছে!
প্রেতপূরীর বিস্তীর্ণ সীমানায় বাকের ভাই খাপ খেতে পারে না।
সাহস দেখানোর স্বপ্ন দেখেছিলো যারা, শাহবাগে মিছিল করেছিলো তারা;
আপনি খুব ভালো করেই বুঝে গিয়েছিলেন,
এইসব পুটিমাছের ঝাঁক সময় মতো ঠিক লুকোবে গর্তে,
দিব্যচোখের দেখা, শিল্পীর দূরদৃষ্টি কেমন নির্বিকার ছিলো,
সেদিন আপনার অনমনীয় দৃঢ়তার কাছে মিথ্যা জিতে গিয়েছিলো।
মিছিলে পাল্টাবে না গল্প, পরিণতি হবে শিল্পীর মনের মতন।
আসলেই কি মিথ্যা ছিলো? মিথ্যা খুন, মিথ্যা সাক্ষী, মিথ্যা দৃশ্যপট?
মেরুদন্ডহীন নির্জীব প্রাণ-পুরুষের ভীড়ে মিথ্যা বলে আছে কি কিছু?
বীরের স্তূতিতে বুঁদ হতে চাওয়া ঝাঁকবাধা যুবকের দল
এখনো কি অগণিত প্রসবে নেমে আসে না এই বাংলায়?
প্রতিরোধে উসকে দিয়ে পরাণ-ভীরুর দল সুযোগ বুঝে দেয় ছুট।
গাছে তুলে মই কেড়ে নেবার অজস্র গল্প জন্ম নিতে থাকে;
জন্ম নিয়ে চলেছে আজো, সেদিনেরই মত, আপনি জেনে গিয়েছিলেন।
এই মাটিতে কিছু পাল্টাবে না, এমন আত্মবিশ্বাস আপনি কোথায় পেয়েছিলেন?
রসায়নে পিএইচডি করার বিনিময়ে? নাকি জননীর গর্ভ থেকে?
যেই জননী গোটা নয়টি মাস সন্তানের বোঝা মাথায় নিয়ে
চষে বেড়িয়েছিলেন গ্রামবাংলার শ্বাপদ সঙ্কুল পথ?
অসিদ্ধ হাতে বৃথা শক্তির অপচয় শুরুতেই বন্ধ করেছিলেন,
নন্দিত নরকের দেশে এতটা দৃঢ়বিশ্বাস আপনাকে কে দিয়েছিলো?
অনেক বিতর্কের মাঝেও আপনাকে নির্বিকার থাকতে দেখেছি
আপনার চরিত্রগুলো ভীষণ ঠোঁটকাটা, কখনো হাসায় কখনো কাঁদায়।
এতটা দ্রষ্টা আপনি কেমন করে হয়েছিলেন? নাকি এও ছিলো আপনার প্রতিবাদের ভাষা?
সকলের প্রতিবাদ একরকম হয় না, সবাই একভাবে পারেও না।
পতিত মধ্যবিত্ত নিজের পায়ে দাড়াতে পারে না।
অনাচারের প্রতিকার চেয়ে তাকিয়ে থাকে বাকের ভাইয়ের দিকে।
মিথ্যা খুনের দায়ে বাকের ভাইকে মেরে ফেলে আপনি ভগ্ন জাতিকে মেরুদন্ড খুঁজতে বলেছিলেন।
বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হবার পর দীর্ঘ কুড়ি বছর,
যাপিত জীবনে বাকের ভাইকে ফিরিয়ে আনার কথা মনে হয় নি আপনার।
বাকের ভাই ফিরে আসে নি আজো, আসবেও না সহসা।
মেরুদন্ডহীনের দঙ্গলে তাঁকে মানায় না কোথাও।

কিন্তু মান্যবর, আমাদের বেঁচে থাকতে হয়, বেঁচে থাকতে চাই আমরা।
আপনি না চাইলেও ফেরাতে চাই তাঁকে।
হিমুর মত নয়, আমাদের গভীর প্রত্যাশা, একদিন
এদেশের প্রতিটি যুবক হবে এক একটা বাকের ভাই,
আপনার শ্লেষের শব্দ শুনেও নিরস্ত হবো না আমরা;
যে আশা জাগিয়েছিলেন, জাগিয়ে অতপর বলী দিয়েছিলেন,
সে আশায় বুক বেধে ভগ্ন মেরুদন্ড সোজা করে
এদেশের আনাচে-কানাচে অগণিত বাকের ভাই জেগে উঠবে।
মধ্যবিত্তের করুণ বিলাপে নয়, প্রদীপ্ত প্রত্যয়ে ঘরে ঘরে নেমে আসবে
কোটি কোটি বাকের ভাইয়ের দল।

শেয়ার করুন

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ খবর

  •   ছাতক শহর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে ঝাড়ু হাতে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা
  •   গোয়াইনঘাট আ.লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে তরুণদের জয়জয়কার
  •   বাংলা সাহিত্য ও আমাদের রবীন্দ্রনাথ
  •   সার্জেন্ট শরিফুল হাসানের বই প্রকাশ পূর্ব আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  •   এমইউ’র ইইই বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক কমিটি গঠন
  •   ইউরোপের স্বপ্নে ‘হারিয়ে যাচ্ছে’ সিলেটের তরুণরা!
  •   উড়ন্ত বিমানে বিয়ে!
  •   দক্ষিণ সুরমায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অল্পের জন্য রক্ষা
  •   স্বামীর পরকীয়া থাকায় রান্নাঘরে পুঁতে রাখলেন স্ত্রী
  •   মেয়েকে বিক্রি করে সেই টাকায় সারারাত জুয়া খেললেন বাবা
  •   বিশ্বনাথে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
  •   সৃজিতের সঙ্গে কোনো একটা সম্পর্ক তো অবশ্যই আছে : মিথিলা
  •   ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে হাজারো ইসরায়েলি কেন?
  •   বড়লেখায় আছিয়া খাতুন বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
  •   বড়লেখায় মসরুরের অন্যরকম বিদায় সংবর্ধনা